মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, রাত ৮:৪৩

মুলাদীর ডাঃ ভুলু সেতুটি পর্যটকদের মিলন মেলায় পরিণত

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল) : নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা তিন উপজেলার হাজার হাজার মানুষের ঈদ ও ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী কেন্দ্র হিসেবে সেতু বন্ধুন করে দিয়েছে মনোমুগ্ধকর পরিবেশের বরিশালের মুলাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: আব্দুর রাজ্জাক ভুলু সেতুটি। মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাট থানার হাজার হাজার মানুষ শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সীদের পর্যটকদের মিলন মেলায় মুখরিত হয়ে উঠছে সেতুটি। করোনা ভাইরাসের কারণে বিনোদন কেন্দ্র ডাঃ ভুলু সেতুটিতে গত কয়েক বছর ধরে তেমন জমে উঠেনি। কিন্তু সেতুটি ছিল পর্যটকদের কাছে একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র। এ বছর করোনা ভাইরাসের তেমন প্রভাব না থাকায় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়ে গেছে শতগুণ।

পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক রয়েছে পুলিশি টহলের ব্যবস্থা। তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর লোক সমাগম ছিল লক্ষণীয়। সেতুটিতে সকল বয়সী নারী-পুরুষের মিলন মেলায় শহুরে জীবনের যে কোন পার্কের চেয়ে এটি ছিল অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় উপভোগ্য একটি স্থান। এখানে প্রেমিক জুটির রোমাঞ্চ, শিশু থেকে বৃদ্ধ বাবা মাকে নিয়ে কাটিয়েছেন তাদের সন্তানেরা।

স্থানীয়ভাবে চিত্ত বিনোদনের কোন সুযোগ ও পরিবেশ না থাকায় বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের জন্য পরিবারের সদস্যরা তাদের ছেলে মেয়েদের ইচ্ছে পুরনের জন্য এক বারের জন্য হলেও উপভোগ করেছেন ডা: ভুলু সেতুটি।

সেতুটির উপর উঠলে চারিদিকের বাতাসে গরম শরীরকে শীতল করে ফেলে। প্রকৃতির শোভা উপভোগ করে সকাল ও বিকেল গড়িয়ে গভীর রাত পর্যন্ত সময় কাটানোর সকল উপাদান রয়েছে এখানে। প্রকৃতির নির্মল বাতাস, খোলা আকাশে মেঘের ভেলায় আত্মহারা হয়ে ভেসে চলেছেন যে যার স্বপ্নের গন্তব্যে। পর্যটনের সকল সুবিধা না থাকলেও আনন্দ উপভোগের কমতি ছিলনা আগত ভ্রমণ পিপাসুদের।

নয়া ভাঙ্গনি নদীর উপর প্রতিষ্ঠিত সেতুটি কয়েক উপজেলার মানুষের এক সেতু বন্ধনের মিলন মেলা। তখন সেতুটির রূপ লাবণ্য বেড়ে যায় শতগুণে। সেতুটির উপরে উঠলে মুলাদী বন্দরে বড় বড় অট্টালিকা, উন্নতমানের দোকানপাট, লঞ্চ ঘাট, সেতুটির পশ্চিম পাশের্^ দক্ষিণ দিকে তৈরী হচ্ছে পূর্ববাজার বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদটি। দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যময় এই মসজিদের দিকে তাকালেই নয়ন জুড়িয়ে যায়। মসজিদের সাথেই রয়েছে হাজ¦ী তোজম আলী কবর স্থান। খরস্রােত নদীটি ওনার কবরের কাছে এসেই থেমে যায়। তাই পর্যটকগণ সেতু ভ্রমণ করতে এসে কবরটি দেখে যান। পূর্ব পাশের্^ স্থানীয় যুবসমাজ পর্যটকদের আনন্দ দেয়ার জন্য আয়োজন করে থাকে বিভিন্ন ধরনের খেলা ধুলা।

শুধু সেতুটির উপর হেঁটেই আনন্দ উপভোগ করে তাই নয়। নৌকা অথবা ট্রলার নিয়ে সেতুটির নিচ দিয়ে নয়া ভাঙ্গনি নদীতে ভ্রমণ করে আনন্দ উপভোগ করে। মাঝে মধ্যে দেখা যায়, সেতুটির উপর ছোট ছোট বাবুদের জন্য নানা ধরনের খেলনা নিয়ে বসে আছে দোকানি। তা ছাড়া হাজার হাজার মানুষের আগমন উপলক্ষ্যে সেতুর দুই পার্শ্বে রয়েছে ভ্রমণ পিপাসুদের নাস্তার জন্য হরেক রকমের ফুচকার দোকান। বিশেষ দিন ছাড়াও এই সেতুটিতে প্রতিদিন বিকেলে বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষেরা নির্মল বাতাসে ভ্রমণ করে।

ভ্রমণ পিপাসুরা ভ্রমণের জন্য সেতুটি বেছে নিলেও রয়েছে অনেক ঝুঁকি। পর্যটক মোঃ রফিউর রহমান, মোঃ আহনাফ রহমান, বাবলি ও লিজা বলেন, হাজার মানুষের মাঝেও সেতুটির উপর দিয়ে চলাচল করে শতশত যানবাহন। কখন কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায় বলা যায় না। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভ্রমণ পিপাসুদের দাবী একটি পার্কের ব্যবস্থা করা হলে নিরাপদে ভ্রমণ ও আনন্দ ভোগ করা যেত।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network