

স্টাফ রিপোর্টার : ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এমন পরিস্থিতি তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে যাতে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নে বিপর্যস্ত আন্দোলন নতুন প্রাণ পায়। এজন্য ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে সহিংসতার জন্য দায়ী কমান্ডার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আঘাত হানার পরিকল্পনাও আছে। একই সঙ্গে আরো বড় পরিসরের হামলার কথাও বিবেচিত হচ্ছে। ইরানে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর নতুন করে গণবিক্ষোভ জাগিয়ে তুলতে সামরিক হামলার পথ বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমনটাই জানিয়েছে একাধিক কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্র। আলোচনায় থাকা বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ও শীর্ষ নেতাদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক হামলা, যাতে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা আবার রাস্তায় নামার সাহস পায়। তবে ইসরায়েলি ও আরব কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু আকাশপথের হামলায় তেহরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে—এমন আশা বাস্তবসম্মত নয়। খবর রয়টার্স। আলোচনার সঙ্গে যুক্ত দুই মার্কিন সূত্র জানায়, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এমন পরিস্থিতি তৈরির কথা ভাবা হচ্ছে যাতে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নে বিপর্যস্ত আন্দোলন নতুন প্রাণ পায়। এজন্য ওয়াশিংটনের দৃষ্টিতে সহিংসতার জন্য দায়ী কমান্ডার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আঘাত হানার পরিকল্পনাও আলোচনায় আছে। একই সঙ্গে আরো বড় পরিসরের হামলার কথাও বিবেচিত হচ্ছে। যার লক্ষ্য হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের নাগালে থাকা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেননি ট্রাম্প।এই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সাহায্যকারী যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পকে বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। ট্রাম্প নিজেও ইরানকে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ভবিষ্যতের কোনো হামলা জুনে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় চালানো অভিযানের চেয়েও কঠোর হবে। তেহরান বলছে, তারা সামরিক মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি কূটনৈতিক পথও খোলা রাখছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বাস্তব আলোচনায় আগ্রহ দেখায়নি। এদিকে আরব ও পশ্চিমা কূটনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, সীমিত বা লক্ষ্যভিত্তিক হামলা আন্দোলনকে জাগিয়ে তোলার বদলে আরো ভেঙে দিতে পারে। কারণ, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নে এরইমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি লক্ষ্য সত্যিই শাসনব্যবস্থা বদলানো হয়, তবে শুধু আকাশপথে হামলাই যথেষ্ট নয়, ‘মাটিতে সেনা নামানো’ ছাড়া ফল আসবে না। এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হলেও দ্রুত নতুন নেতৃত্ব ওঠে আসবে বলেই তাদের ধারণা। পশ্চিমা গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, বিক্ষোভের কারণগুলো এখনো রয়ে গেছে, সরকার দুর্বল হলেও বড় কোনো ফাটল দেখা যায়নি। ৮৬ বছর বয়সী খামেনি আগের তুলনায় জনসমক্ষে কম আসছেন। কার্যত ক্ষমতার বড় অংশ ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-ঘনিষ্ঠ নেতাদের হাতে কেন্দ্রীভূত। তবে যুদ্ধ, উত্তরাধিকার ও পারমাণবিক নীতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা এখনো খামেনির হাতেই—যা রাজনৈতিক পরিবর্তনকে কঠিন করে তুলছে অঞ্চলজুড়ে আরেকটি বড় ভয় ‘ব্লোব্যাক’। উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, হামলা হলে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন আক্রমণের মাধ্যমে তার প্রথম প্রতিক্রিয়া আসবে তাদের দিকেই। সৌদি আরবসহ একাধিক দেশ ওয়াশিংটনকে হামলা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিলেও এর পরিণতি ভোগ করতে হবে এ অঞ্চলকেই।

Posted ১০:৪৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা | Gano Barta


