

দিনাজপুর সদর উপজেলার ১ নং চেহেলগাছি ইউনিয়নের বরইল বিহারীপাড়া এলাকার প্রায় ৩০০ পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি পানি নিষ্কাশনের অভাবে জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। স্থানীয় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে নিজেরাই টাকা তুলে বেশ কয়েকবার ড্রেন পরিষ্কার করলেও মিলেনি আশানারুপ ফল। সামান্য বৃষ্টিতেও পানি জমে থাকার কারনে আশেপাশের বাড়িঘর যেমন হাঁটু পানিতে ভরে যায়,তেমনি ড্রেনের উপর ঠিকভাবে স্লাপ না থাকার কারণে বাচ্চা থেকে বয়স্ক,বৃদ্ধ ড্রেনে পরে অনেকেই হয়েছে দুর্ঘটনার স্বীকার ।ভোট আসলেই জনপ্রতিনিধিরা আশার বাণী শোনালেও,দীর্ঘদিনেও মিলেনি সুরাহা। এমনটি অভিযোগ করে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে আবুল কাশেমের স্ত্রী মোছাঃ শামসুন্নাহার বলেন দীর্ঘদিন ধরে আমাদের একটি চাওয়া জলবদ্ধতার হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া। চলাচলের একটি রাস্তা তার মাঝে একটি ড্রেন। তাও পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় সব সময় পানি জমে থাকার কারনে একদিকে যেমন মশার উপদ্রব তেমনি অসুখ-বিসুখ হলে বা গর্ভবতী কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে না পারার কারণে,কোলে করে রাস্তা অব্দি নিয়ে যেতে হয়, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা থেকে আমরা কিভাবে পরিত্রাণ পাব? মোঃ কাইয়ুম আলী বলেন সবসময় হাঁটু পানি জমে থাকার কারণে ঠিকভাবে নামাজ পড়তেও যাওয়া যায় না, প্রতিনিধিদের বলেও কোন সূরাহা পাচ্ছিনা। ইতিপূর্বে যেসব জনপ্রতিনিধি ছিলেন তারা শুধু আশ্বাসের বাণী শুনিয়ে গেছেন, কিন্তু ফল মিলেনি। বরইল ৪ নং ওয়ার্ড বিহারী পাড়া গ্রামের মোঃ মমিন বলেন সাবেক চেয়ারম্যান পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ করলেও, কারোর একার পক্ষে সেটা করা সম্ভব না হওয়ায়, সেটা অসমাপ্তই থেকে যায়। প্রতিটি জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমাদের একটাই দাবি ছিল আমাদের চলাচলের একটিমাত্র রাস্তা সংস্কার ও পানি নিষ্কাচনের উপযুক্ত ব্যবস্থা করা। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও আমাদের প্রত্যাশা রয়েই গেল, ফল পেলাম না।৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়নের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন বলেন আমরা দীর্ঘদিন থেকে এ সমস্যায় আছি, কিন্তু ইতিপূর্বে কোন জনপ্রতিনিধিদের ইতিবাচক সারা মেলেনি শুধু মুখে মিষ্টি কথা আর আশার বাণী শুনিয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার অভাবে বিহারীপাড়া এলাকার শতশত মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট পোহাচ্ছে, এর পরিত্রাণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ইউনিয়নপরিষদের সর্বাধিক সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া জমে থাকা পানির কারণে ড্রেনে পড়ে যাওয়া বৃদ্ধা নুরজাহান বেগম সহ এলাকার অনেকেই তাদের এই দুর্ভোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আসু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সদর উপজেলার ১ নং চেহেল গাজী ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্যানেল মেয়র কুলসুম বানু বলেন বরইল গ্রামের
৪ নং ওয়ার্ড বিহারীপাড়া এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা শুনেছি এবং সরজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করেছি। আগামী জুন মাসে সরকারি বরাদ্দ পেলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ড্রেন সংস্কার কাজের জন্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।
দিনাজপুর বরইল বিহারীপাড়ার প্রায় ৩০০টি পরিবারের এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগ কোনো অবহেলা নয়, বরং চরম মানবিক বিপর্যয়। সামান্য বৃষ্টিতেই যেখানে পুরো এলাকা হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়, গর্ভবতী নারী বা মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভেতরে ঢুকতে পারে না, সেখানে নাগরিক অধিকার বলতে আর কী বাকি থাকে? বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিরা শুধু ভোটের স্বার্থে আশার বাণী শুনিয়েছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। স্থানীয় মানুষ নিজেরা টাকা তুলে ড্রেন পরিষ্কার করেও এর স্থায়ী সমাধান করতে পারছে না। প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি—কাগজে-কলমে আর কোনো আশ্বাস নয়, অনতিবিলম্বে বিহারীপাড়ার একমাত্র রাস্তাটি সংস্কার এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি স্থায়ী ও পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।এমনটি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রামবাসী।

Posted ৫:৩৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা | Gano Barta


