
নিজস্ব প্রতিবেদক :
অমর একুশে বইমেলা মানেই নতুন বইয়ের ঘ্রাণ আর লেখক-পাঠকের প্রাণের মিলনমেলা। ২০২৬-এর এই বর্ণিল মেলায় পাঠকদের বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে সময় প্রকাশন থেকে প্রকাশিত বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক পার্থ প্রতিম দে-র নতুন উপন্যাস ‘তিলপর্ণিকা’। এটি লেখকের নবম গ্রন্থ এবং তৃতীয় উপন্যাস।
‘তিলপর্ণিকা’ কেবল একটি গল্প নয়, বরং এটি একটি সময়ের জীবনঘনিষ্ঠ দলিল। সামাজিক প্রেক্ষাপটে রচিত এই উপন্যাসে লেখক অত্যন্ত নিপুণভাবে মানব জীবনের উত্থান-পতনের এক মর্মান্তিক ও বাস্তবসম্মত চিত্র অঙ্কন করেছেন। উপন্যাসের পরতে পরতে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ পূর্বাপর বাংলাদেশের আর্থসামাজিক পটভূমি। একটি দেশ যখন যুদ্ধের উত্তাল সময় পেরিয়ে পুনর্গঠনের দিকে এগোচ্ছিল, তখন সাধারণ মানুষের জীবন সংগ্রাম কেমন ছিল—তার এক নিখুঁত বর্ণনা পাওয়া যায় এই লেখনীতে।
পার্থ প্রতিম দে বরাবরই মানুষের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা এবং সম্পর্কের রসায়ন তুলে ধরতে সিদ্ধহস্ত। ‘তিলপর্ণিকা’ একটি বিশুদ্ধ ট্র্যাজিক উপন্যাস। এখানে মানুষে মানুষের সম্পর্কের যে অতুলনীয় দৃশ্য ফুটে উঠেছে, তা পাঠককে আবেগতাড়িত করে। বন্ধুতা, প্রেম, বিচ্ছেদ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার টানাপোড়েনে সৃষ্ট এক বিষাদময় পরিণতি এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য, যা পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ ফেলে যায়।
“তিলপর্ণিকা কোনো কাল্পনিক জগতের গল্প নয়, বরং আমাদের শেকড় এবং ইতিহাসের ধুলোবালি মাখা এক জীবন্ত ও করুণ প্রতিচ্ছবি।”
• ঐতিহাসিক গুরুত্ব: মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার বিবর্তন বুঝতে এটি একটি সহায়ক পাঠ।
• সাবলীল ভাষা: পার্থ প্রতিম দে’র সহজ অথচ গভীর গদ্যশৈলী পাঠককে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আচ্ছন্ন করে রাখে।
• আবেগ ও বাস্তবতা: গল্পের মর্মান্তিক ও ট্র্যাজিক পরিণতি জীবনের চরম সত্যগুলো অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে উপস্থাপন করেছে।
অমর একুশে বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে সময় প্রকাশন-এর ৮২০-৮২৩ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে ‘তিলপর্ণিকা’।