আজ, Saturday


২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শিরোনাম

ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধাঞ্জলি

শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভাষা শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধাঞ্জলি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

স্টাফ রিপোর্টার : এসময় হাজার হাজার মানুষ খালি পায়ে বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি—আমি কি ভুলিতে পারি’ গানে কণ্ঠ মিলিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যান। অনেক বিদেশী নাগরিককে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে।মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছে জাতি। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহবুদ্দিন। এরপর ১২টা ৭ মিনিটে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে তারা ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতারা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিদেশী কূটনীতিক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, জিয়া পরিবারের সদস্যরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান এবং ১১ দলীয় জোট ও বিরোধীদলীয় নেতারাও শহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা সংগঠন পর্যায়ক্রমে ভাষা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।এদিন ভোরে অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারো হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভেসে ওঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের ভিড়।

এর আগে শুক্রবার রাত ১২টার আগেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের অগণিত মানুষ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় উপস্থিত হন।  এ সময় হাজার হাজার মানুষ খালি পায়ে বুকে শোকের প্রতীক কালো ব্যাজ ধারণ করে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি—আমি কি ভুলিতে পারি’ গানে কণ্ঠ মিলিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যান। অনেক বিদেশী নাগরিককে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ ছিল সরকারী ছুটির দিন। ‘শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাত ফেরি ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে বাংলা ভাষার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে মানুষ, জারি হয় ১৪৪ ধারা, ভেঙে ফেলা হয় শোষকের শৃঙ্খল। রক্তে ভেসে যায় রাজপথ। গুলিতে বিদীর্ণ হয় বুক। শহীদ হন রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা আরো অনেকে। ভাষার জন্য প্রাণ দিয়ে ইতিহাস গড়েন তারা। বাংলা পায় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা। দিনটিকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয় ১৯৯৯ সালে। অমর একুশে এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এছাড়াও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাজধানীর স্কুল-কলেজ ও পাড়া-মহল্লায়ও ছিল নানা আয়োজন। অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন সবাই।আজিমপুর কবরস্থান এবং শহরের অন্যান্য স্থানেও পুষ্পস্তবক অর্পণ, কালো ব্যাজ এবং ভোরের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বিটিভি এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলি বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে এবং সংবাদপত্রগুলো দিবসটি উপলক্ষে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:১৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দৈনিক গণবার্তা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদকঃ শাহিন হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ মোঃ শাহ পরান হাওলাদার

বিপিএল ভবন (৩য় তলা ) ৮৯, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা ।

মোবাইল : ০১৭১৫১১২৯৫৬ ।

ফোন: ০২-২২৪৪০০১৭৪ ।

ই-মেইল: ganobartabd@gmail.com