আজ, Thursday


৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শিরোনাম

উত্তর কাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
উত্তর কাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
সংবাদটি শেয়ার করুন....

স্টাফ রিপোর্টার : বরিশাল সদর উপজেলার উত্তর কাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়নমূলক কাজের মান, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (এসএমসি) গঠন প্রক্রিয়া এবং বিদ্যালয় পরিচালনা নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজ চলাকালে নির্মাণকাজে নানা অনিয়মের চিত্র তাদের নজরে আসে। তাদের অভিযোগ, ফ্লোর ঢালাই, পিলাট ঢালাই,জানালার ছাদসহ বিভিন্ন কাজে ত্রুটি ও নিম্নমানের কাজের বিষয়টি ছবি ও ভিডিওসহ প্রধান শিক্ষিকা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানানো হলেও কাজ চলতে থাকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষিকার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।” পরে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় জানতে চাইলে তিনি এটিকে গুরুত্ব না দিয়ে,তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে অভিযোগকরা ব্যক্তিকে, ভয় সহ হুমকি, চুপথাক জন্য বলেন অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (এসএমসি)-২০২৬ গঠন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারী মো. সৈয়েব হোসেন সম্রাট প্রধান শিক্ষিকার কাছে লিখিতভাবে এসএমসি গঠনের সর্বশেষ অগ্রগতি, ভোটার তালিকা, নির্বাচন বা মনোনয়নের তফসিলসহ বিভিন্ন তথ্য জানতে আবেদন করেন। তবে তিনি দাবি করেন, ওই আবেদনের কোনো লিখিত জবাব দেওয়া হয়নি। বরং প্রধান শিক্ষিকা নাকি বলেন, “আপনারা আমাদের ডিস্টার্ব করবেন না।”

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, একজন সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দা হিসেবে বিদ্যালয়ের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা তাকে বলেন, “আপনি আমার কাছে কিছু জানতে চাইবেন না, আমি আমার মতো করেই স্কুল চালাব।” স্কুল চলাকালীন সময় তার কাছে নিজেদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা জানান।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (এসএমসি) গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, কমিটির কোনো তালিকা এখনো প্রস্তুত করা হয়নি। এ বক্তব্যকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—যদি কমিটির পূর্ণাঙ্গ তালিকাই প্রস্তুত না হয়ে থাকে, তাহলে কী প্রক্রিয়ায় সভাপতি নির্বাচন বা কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো সরকারি নথি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এলাকার একাধিক অভিভাবক ও বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয়টি প্রধান শিক্ষিকা নিজস্ব প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করছেন বলে তাদের অভিযোগ। তারা আরও দাবি করেন, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও আঙিনার একটি অংশে বসতবাড়ি এবং মুরগির খামারসদৃশ স্থাপনা রয়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, বিষয়টি আগের স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম খোকনের সময়ের।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগটি লিখিতভাবে (হার্ডকপি) জমা দিতে হবে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, ঘটনার বিস্তারিত, ছবি ও ভিডিওসহ অভিযোগের তথ্য এর আগেই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছে। এরপরও লিখিত হার্ডকপি চাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সরকারি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণের বিধান প্রচলিত রয়েছে।

অভিভাবকদের একাধিকজনের দাবি, তারা এসএমসি গঠনের বিষয়ে কোনো নোটিশ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি। তাদের অভিযোগ, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকার বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে তিনি শুধু জানান, এসএমসি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটির তালিকা এখনো প্রস্তুত হয়নি। অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভর করবে। তদন্ত শেষে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক, সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৮:২৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

দৈনিক গণবার্তা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদকঃ শাহিন হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ মোঃ শাহ পরান হাওলাদার

বিপিএল ভবন (৩য় তলা ) ৮৯, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা ।

মোবাইল : ০১৭১৫১১২৯৫৬ ।

ফোন: ০২-২২৪৪০০১৭৪ ।

ই-মেইল: ganobartabd@gmail.com