

আল আমীন : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বেশকিছু সড়কের অবস্থা বেহাল। রাস্তাগুলোতে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, যা যান চলাচলে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করছে। আবার কোনো কোনো রাস্তা হেঁটে চলাচলেরও অযোগ্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাগুলোর সংস্কার হয়নি।
বিশেষ করে নালিতাবাড়ী পৌর শহরের আড়াইআনী বাজার থেকে পাশ্ববর্তী হালুয়াঘাট উপজেলা সদরের সাথে সংযোগ সড়কের কালাপাগলা বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেও বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার অবস্থা নাজুক। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এ সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।
বর্তমানে ভারী যানবাহনসহ সিএনজি, অটোরিক্সা যোগে সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন দুই উপজেলার অগণিত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। সড়কটির বেশিরভাগ ভেঙে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। সড়কের শুধু কার্পেটিং নয়, অনেক জায়গায় পাথর, খোয়া ও বালি পর্যন্ত উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বড় বড় গর্তের কারণে একদিন বৃষ্টি হলেই প্রায় এক সপ্তাহ পানি জমে থাকে। বলাবাহুল্য তখন সড়ক দিয়ে চলাচল করাটা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘটতে থাকে দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংস্কারের অভাবে প্রতিদিনই এই সড়কে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে তাদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে সড়কটি সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মিন্টু মিয়া বলেন, নালিতাবাড়ী পৌরশহরে প্রবেশের আগে উচা ব্রিজ, শেহড়াতলী ও ভালুকাকুড়া এলাকায় সড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। এতে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অটোরিক্সা চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে যানবাহন নষ্ট হচ্ছে, আয়ও কমে গেছে।
দুর্ঘটনা কমাতে বছর তিন আগে নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে এ সড়কের বেশ কিছু স্থানে বড় বড় গর্তে ইটের খোয়া দেওয়া হয়েছিলো। এগুলোও এখন সরে গেছে। এরপরে আর কোন সংস্কার হয়নি ব্যস্ত এ সড়কটির।
সড়কের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শরাফ উদ্দিন জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিআরডিপি প্রকল্পের আওতায় এই সড়কটি পুনঃ নির্মানের জন্য প্রস্তাব পাঠানো আছে। এছাড়াও নালিতাবাড়ী বাজার থেকে নির্মাণাধীন ব্রীজ পর্যন্ত আরেকটি প্রপোজাল পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।

Posted ৮:০৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা | Gano Barta


