মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৪ মাঘ ১৪২৮, সকাল ৯:৪৭
শিরোনাম :
মুলাদীতে শিক্ষার্থীদের অনুমতি ছাড়াই মাদরাসায় ভর্তির আবেদনের অভিযোগ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার সরল উত্তরণ কৌশল প্রণয়ন করবে : প্রধানমন্ত্রী কনে দেখে ফেরার পথে প্রবাসী বরসহ নিহত-৩ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর মুলাদীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন মুলাদীতে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক প্যাদারহাট ওয়াহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন ওয়াহিবা আখতার শিফা প্রোটেক্টিভ লাইফ ও আইসিবি ক্যাপিটাল এর সাথে আইপিও সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর পূর্বের স্থানে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ‘এমভি অভিযান-১০’ লঞ্চে আগুনে প্রাণহানি ৪২, দগ্ধ ৭০: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

যশোরে দৈনিক রানার সম্পাদক মুকুল হত্যার বিচার ২২ বছরেও শেষ হয়নি

মোরশেদ আলম, যশোর প্রতিনিধি : এক সময়ের প্রভাবশালী দৈনিক রানার সম্পাদক আর এম সাইফুল আলম মুকুল হত্যাকান্ডের বিচার ২২ বছরেও শেষ হয়নি। এরমধ্যে এক যুগ ধরে নানা জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতায় স্থবির আছে চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচার কাজ।এই প্রতিবন্ধকতা দূর করে মামলা সচল করার তেমন উদ্যোগও নেই রাষ্ট্রপক্ষের। আর তাই বিচার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ সাইফুল আলম মুকুলের পরিবার ও যশােরের সাংবাদিক সমাজ।
নিহতের স্বজন ও যশোরের সাংবাদিকরা অবিলম্বে মুকুল হত্যার বিচার ও আসামিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ দাবি নিয়েই রোববার সাংবাদিক আরএম সাইফুল আলম মুকুলের ২২তম হত্যাবার্ষিকী পালিত হয়।১৯৯৮ সালের এই দিনে সন্ত্রাসীদের বোমা ও গুলিতে নিহত হন তিনি। করোনার কারণে এ বছর সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সাইফুল আলম মুকুলের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, যশোরের দৈনিক রানার সম্পাদক আরএম সাইফুল আলম মুকুল ১৯৯৮ সালের ৩০ আগস্ট রাতে শহর থেকে বেজপাড়ায় বাড়ি যাবার পথে খুন হন। দুর্বৃত্তরা শহরের চারখাম্বার মোড়ে তার উপর বোমা হামলা চালায়।পরদিন নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার শিরিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি যশোর জোনের তৎকালীন এএসদিুধুলাল উদ্দিন আকন্দ ১৯৯৯ সালের ২৩ এপ্রিল ২২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। এক পর্যায়ে আইনি জটিলতার কারণে মামলার বিচারিক কার্যক্রম থমকে যায় এবং চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি হাইকোর্ট থেকে স্থগিত করে দেয়া হয়। দীর্ঘদিন পর ২০০৫ সালে হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চ থেকে মুকুল হত্যা মামলা পুনরুজ্জীবিত করে বর্ধিত তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। ২০০৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সিআইডির এএসপি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মওলা বক্স নতুন দুই জনের নাম অন্তর্ভূক্ত করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট জমা দেন। ২০০৬ সালের ১৫ জুন যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে ২২ জনকে অভিযুক্ত করে মুকুল হত্যা মামলার চার্জগঠন করা হয়। ২০১০ সালে মামলার ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতে।

পরে সাংবাদিক মুকুল হত্যা মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করে ফারাজী আজমল হোসেন হাইকোটের একটি বেঞ্চে রিট আবেদন করেন। উচ্চ আদালতে যাওয়ায় ফের মুকুল হত্যা মামলার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক অভিযুক্ত ফারাজী আজমল হোসেনের অংশ বাদ রেখে বিচার কার্যক্রম শুরু করেন। মামলার স্বাক্ষী গ্রহণ শেষে ফারাজী আজমল হোসেনের হাইকোর্টে করা অব্যহতির আবেদনের নিস্পত্তি সংক্রান্ত আদেশ সংশ্লি¬ষ্ট আদালতে জমা দিতে বলা হয় তার আইনজীবীকে। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছর অতিবাহিত হলেও হাইকোর্টের এ আদেশ এখনো এ আদালতে এসে পৌঁছায়নি। ফলে মামলার কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত হয়ে আছে। হাইকোর্টের আদেশ পেলে আর্গুমেন্ট শেষে দ্রুত এ মামলার রায় পাওয়া যাবে বলে আদালত সূত্র জানায়।
এ বিষয়ে যশোর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি এম ইদ্রিস আলী জানান, হাইকোর্টের এ বিষয়ে আদেশ পাওয়া গেলে যুক্তিতর্ক শেষে দ্রুত রায় পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, সাংবাদিক আরএম সাইফুল আলম মুকুলের হত্যাবার্ষিকী উপলক্ষে রোববার প্রেসক্লাব যশোর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে), সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর ও যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেন। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালো ব্যাজ ধারণ। সকাল সাড়ে দশটায় প্রেসক্লাব যশোরের সামনে থেকে শোকর‌্যালি, শহীদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network