মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি : বরিশালের মুলাদীতে এবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগী হতদরিদ্রদের পরিচয়পত্র (কার্ড) দিতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারী ইউপি সদস্য ও জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর বাজারে ওই ইউনিয়নের ৪৯জন উপকারভোগী থেকে ২০০টাকা করে ‘খরচ’ নেওয়া হয়। নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য শায়লা শারমিন মিম্মু এবং ওই ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতে ইসলামীর আমির আবিদুর রহমান এই টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন ভূক্তভোগীরা। তবে ইউপি সদস্য ও জামায়াত নেতা দুজনেই টাকা নেওয়া বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পরিবেশক (ডিলার) হতে না পারায় একটি মহল অপপ্রচার করছেন।
অপরদিকে, দরিদ্রদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে রোববার দুপুরে পরিদর্শনে যান উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক মো. বিল্লাল হোসেন। সেখানে ঘটনার সত্যতা পেয়ে দুজনকে ধমকে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। পরে ইউপি সদস্য ও জামায়াত নেতা উপকারভোগীদের কার্ড বাতিলের ভয় দেখিয়ে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি লিখিয়ে কাগজে স্বাক্ষর নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জানা যায়, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নাজিরপুর ইউনিয়নের ৫১৩ জন উপকারভোগী রয়েছেন। আরও ৪৯জন দরিদ্রদের নাম নতুন করে তালিকাভুক্ত হয়। ইউনিয়নে পরিবেশক না থাকায় পার্শ্ববর্তী বানীমর্দন এলাকায় তাদের সংযুক্ত করা হয় এবং এসব পরিবারকে চাল দিতে সমন্বয় করার জন্য ইউপি সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নতুন তালিকাভূক্ত এক উপকারভোগী জানান, নতুন কার্ড তৈরির খরচের কথা বলে ইউপি সদস্য শায়লা শারমিন মিম্মু এবং জামায়াত নেতা আবিদুর রহমান জনপ্রতি ২০০টাকা নিয়েছেন। কেউ টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার নাম বাদ দেওয়ার ভয় দেখান তারা। পরে সবাই টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে এক কর্মকর্তা সেখানে যান। পরে ইউপি সদস্য ও জামায়াত নেতা ‘টাকা নেওয়া হয়নি’ লেখা একটি কাগজে স্বাক্ষর নেন।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য শায়লা শারমিন মিম্মু বলেন, নতুন উপকারভোগী কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়নি। এবিষয়ে সবার স্বাক্ষরিত সম্বলিত লিখিত প্রমাণ রয়েছে। নাজিরপুর ইউনিয়নের অনেকে খাদবান্ধব কর্মসূচির ডিলার হতে চেয়েছেন। কিন্তু বিভিন্ন অনিয়ম থাকায় তারা ডিলারশিপ পাননি। তারাই অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং টাকা নেওয়ার বদনাম করছেন। নাজিরপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমির আবিদুর রহমান বলেন, নতুন তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের কাগজপত্র গোছাতে সহযোগীতা করেছেন তিনি। কারও থেকে টাকা গ্রহণ করা হয়নি।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ইউপি সদস্য ও জামায়াত নেতাকে ধমকে শাসন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Posted ৭:১৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
দৈনিক গণবার্তা | Gano Barta