বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, বিকাল ৪:১০

বন্যা পরিস্থিতি: ১০ জেলায় উন্নতি, ৫ জেলায় স্থিতিশীল

গণবার্তা রিপোর্ট: দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১০ জেলার বন্যা পরিস্থিতি রোববারের মধ্যে উন্নতি হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যাঞ্চলের ৫ জেলার বন্যা পরিস্থিতি হতে পারে স্থিতিশীল।

শনিবার (১৮ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত গত কয়েক দিনে কিছুটা কমায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে।

তবে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও এখনও প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দেশের ২২টি অঞ্চলে বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে।

বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী সোমবার নাগাদ পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানির সমতল স্থিতিশীল আছে। রোববার নাগাদ পদ্মা নদীর পানির সমতল হ্রাস পেতে শুরু করতে পারে। এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীসমূহের পানি সমতলও হ্রাস পাচ্ছে, যা রোববার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদী জামালপুর পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এ অবস্থায় রোববারের মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। অপরদিকে, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ি ও ঢাকা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির স্থিতিশীল থাকতে পারে।

বন্যার পানি বিভিন্ন পয়েন্টে কমতে শুরু করলেও বাড়ছে বৃষ্টিপাত। শনিবারও সারাদেশে আগের চারদিনের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

অন্যদিকে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যগুলোতেও বেড়েছে বৃষ্টিপাত, যে এলাকাগুলোর বৃষ্টিপাত বাড়লেই দেশে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। শুক্রবার থেকে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৯৪ মিলিমিটার এবং পাসিঘাটে ৭৪ মিলিমিটার বর্ষণ হয়েছে। অর্থাৎ আসাম, মেঘালয়ে পুনরায় অতিভারী বর্ষণ শুরু হয়ে গেছে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়বে। আর আগামী পাঁচদিনে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে তেঁতুলিয়ায়, ১২২ মিলিমিটার। অর্থাৎ দেশের অভ্যন্তরেও অতিভারী বর্ষণ শুরু হয়েছে।

শনিবার ঢাকায় হালকা বৃষ্টিপাত হয়েছে, ১৯ মিলিমিটার। এ দিন সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চাঁদপুরে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানীতে ছিল ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা।

আবহাওয়া অফিস রোববার সন্ধ্যা নাগাদ দেওয়া এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে- রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network