

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (ঘঈঞই) থেকে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বই বহনের সরকারি বরাদ্দের টাকা ব্যাংক থেকে তুললেও তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে না দিয়ে নিজের পকেটে রেখে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে । অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন জেলা শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এ. কে. এম ছালেহ্ উদ্দিন।
নিয়ম অনুযায়ী, জেলা শিক্ষা অফিস থেকে কারিগরি প্রতিষ্ঠানসমূহ নতুন বই সংগ্রহ করার পর তাদের যাতায়াত ও পরিবহন খরচ মেটাতে এই বিশেষ তহবিল প্রদান করা হয়।
সংগৃহীত ব্যাংক বার্তার তথ্যমতে, এনসিটিবি ঢাকা শাখা থেকে গত ১৮ জুন ১৯,৬০৩ (উনিশ হাজার ছয়শত তিন) টাকার একটি সরকারি বরাদ্দ এসে পৌঁছায়। উক্ত বরাদ্দের অর্থ গত ২৪ জুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নগদ উত্তোলন করা হলেও তা কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।
ব্যাংক থেকে টাকা তোলার দীর্ঘদিন কেটে গেলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রাপ্য পরিবহন খরচ না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বরাদ্দকৃত টাকা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক কারিগরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, “বিগত দিনে আমরা বই নেওয়ার সময় কিছু টাকা পেয়েছিলাম। কিন্তু এরপর থেকে আর কিছুই পাচ্ছি না। সরকারিভাবে ঠিকই অর্থ বরাদ্দ আসে, অথচ স্থানীয় শিক্ষা কর্মকর্তাদের অসচ্ছতা ও খামখেয়ালিপনার কারণে আমরা আমাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”
একই অভিযোগ তুলে নাম গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে অপর এক কারিগরি কলেজের প্রধান শিক্ষক জানান, “দূর-দূরান্ত থেকে নিজেদের খরচে এসে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে বই নিয়ে যেতে হয় এনসিটিবি থেকে বই পরিবহনের এই খরচের টাকা পাঠানো সত্ত্বেও কেন আমাদের দেওয়া হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়। টাকা তুলে রেখে দেওয়ার এই চর্চা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার এ,কে,এম ছালেহ্ উদ্দিনের সাথে ফোন কলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, “কারিগরি প্রতিষ্ঠানের বই পরিবহনের অর্থ সরাসরি মাঠপর্যায়ে সময়মতো পাঠানো হয় যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ভোগান্তিতে না পড়ে। বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলন করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে না দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাপ্য সরকারি অর্থ আটকে রাখা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। কোনো কর্মকর্তা টাকা তুলে নিজ দায়িত্বে রেখে দিলে তা গুরুতর অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে। আমরা বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকে জেনেছি। বিষয়দি তদন্ত করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

Posted ৩:৩৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা | Gano Barta


