সোমবার, ৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, রাত ১২:২২
শিরোনাম :
আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের ফুলেল শুভেচ্ছা করোনায় মৃত্যু কমলেও বেড়েছে শনাক্তের হার সিলেটে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ কোটি টাকা অনুদান আওয়ামী লীগ জনকল্যাণের রাজনীতি করে : ওবায়দুল কাদের পদ্মা সেতু নির্মাণের সব কৃতিত্ব বাংলাদেশের জনগণের : প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে চায় : প্রধানমন্ত্রী আইডিআরএ চেয়ারম্যানকে প্রাইম লাইফের ফুলেল শুভেচ্ছা আইডিআরএ চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দকে বেঙ্গল ইসলামি লাইফের শুভেচ্ছা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স’র ২৬তম এজিএম অনুষ্ঠিত ওয়ান ব্যাংকের আল নূর দ্বৈত মুদ্রা ডেবিট কার্ড উদ্বোধন
Logo

মুলাদীতে শিক্ষার্থীদের অনুমতি ছাড়াই মাদরাসায় ভর্তির আবেদনের অভিযোগ



মুলাদীতে শিক্ষার্থীদের অনুমতি ছাড়াই মাদরাসায় ভর্তির আবেদনের অভিযোগ
https://ganobarta.com/archives/6513

মুলাদী প্রতিনিধি: মুলাদীতে শিক্ষার্থীদের সম্মতি ছাড়াই মাদরাসায় ভর্তির আবেদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নের ইসলামাবাদ নেছারিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী ওই মাদরাসার ৫৪জন শিক্ষার্থীর ভর্তির আবেদন করে দিয়েছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা অন্য কোথাও ভর্তির আবেদন করতে পারছেন না। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। বিজ্ঞান পড়ার ইচ্ছা থাকলেও মাদরাসার সাধারণ বিভাগে আবেদন করে দেওয়ার ফলে তাদের উচ্চশিক্ষা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশণা অমান্য করে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উচ্চমাধ্যমিক ভর্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের গত ৮ জানুয়ারি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের ভর্তির আবেদন শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন করতে পারছেন। সেখানে একজনের আবেদন অন্য কেউ যেন না করে সেই বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।

ইসলামাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাদরাসার অধ্যক্ষ মাও. মো. ইয়াসিন মুনির ওই মাদরাসার বিজ্ঞান বিভাগের ১১জন এবং সাধারণ বিভাগের ৪৩জন শিক্ষার্থীর আবেদন করে দিয়েছেন। তাই তারা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদন করতে পারছেন না। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান কিংবা প্রকৌশলী নিয়েই উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ইচ্ছা থাকলেও তাদের আটকে দেওয়া হয়েছে। চরডুমুরীতলা গ্রামের এলেম সরদারের ছেলে নাহিদ জানান, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়ার ইচ্ছা নিয়ে মাদরাসায় বিজ্ঞান বিভাগে পড়েছি। মাদরাসায় আমার রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকায় তারা ৮ জানুয়ারি রাত ১২টার পর ইসলামাবাদ নেছারিয়া আলিম মাদরাসা প্রথম পছন্দ দিয়ে আবেদন করে দিয়েছেন। তাই এখন আমার ইচ্ছা অনুযায়ী আবেদন করতে পারছি না।

গাছুয়া ইউনিয়নের চরধলেশ্বর গ্রামের মনির ঘরামির ছেলে নাজমুল জানান, ৮ জানুয়ারি সকাল ৬টায় আবেদন করার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখি আমার আবেদন করা হয়েছে। আমি দাখিল বিজ্ঞান থেকে পাস করেছি। উচ্চমাধ্যমিকেও বিজ্ঞান নিয়ে পড়বো। ইসলামাবাদ নেছারিয়া মাদরাসায় বিজ্ঞান বিভাগ নেই। তাই অন্যপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মাদরাসা থেকে আবেদন করে দেওয়ায় আবেদন করতে পারছি না। পিতা-মাতাকে নিয়ে মাদরাসায় গিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

চরকালেখান গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে জুবায়ের জানান, কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশুনা করার ইচ্ছা আছে। আমাকে না জানিয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী সেখানেই সাধারণ বিভাগে ভর্তির আবেদন করে দিয়েছেন। এখন আবেদনকৃত মোবাইল নম্বর ও গোপন নম্বর হলে আবেদন পরিবর্তন করে কলেজে ভর্তি হওয়া সম্ভব। কিন্তু মাদরাসার অধ্যক্ষ কাউকে সেই সুযোগ দিচ্ছেন না।

এব্যাপারে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাও. ইয়াসিন মুনির শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে আবেদন করার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অফিস সহকারী শিক্ষার্থীদের আবেদন করে দিয়েছেন। তবে কোনো শিক্ষার্থী অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চাইলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের না জানিয়ে আবেদন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ পেলে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ প্রেরণ করা হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network