মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮, দুপুর ২:২২
শিরোনাম :
৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর রাজশাহী বিভাগের উন্নয়ন সভা এনআরবি ইসলামিক লাইফের ব্যবসা উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত মুজিববর্ষ বধির দাবা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত উইংস গ্রুপ ও গার্ডিয়ান লাইফের মধ্যে গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স চুক্তি স্বাক্ষর সেরা ব্যাংকের পুরস্কার পেল এনআরবিসি ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে এনআরবিসি ব্যাংক মার্কেন্টাইল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মাগুরা সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন

বিলুপ্তির পথে মুলাদীর ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

ভূঁইয়া কামাল : বরিশাল জিলার মুলাদী উপজেলার মৃৎশিল্প বিলুপ্ত হতে চলছে প্লাষ্টিক ও মেলামাইনের প্রভাবে। মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নে সেলিমপুর ও রামচর গ্রামে মৃৎশিল্পের প্রধান উপকরণ পরিষ্কার এটেল মাটিকে বিবেচনা করে ১৯ শতকে ৪০ এর দশকে ভিম পালের হাত ধরে মৃৎশিল্পের গোড়াপত্তন হয়েছিল। ভিম পালের পাশাপাশি শ্রীনাথ পাল ও সুরেন্দ্র পাল, সংযুক্ত হয়ে গড়ে তোলেন মৃৎশিল্পের প্রসারতা, (কুমার পট্টি) পাল পাড়া পরিচিতি পায় পাশ্ববর্তী বৃহত্তর জেলা ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও পিরোজপুরের মহাজনদের কাছে। পালদের তৈরীকৃত মাটির তৈজসপত্র ও দেব দেবীর প্রতিমার চাহিদা ছিলো ব্যাপক। এই মৃৎশিল্পকে ঘীরেই গড়ে উঠেছিলো রামচর ও সেলিমপুর বাজার।

সেলিমপুরের পালেরা বংশ পরম্পরায় বৈচন্দ্র পাল, সচিন্দ্র পাল, ধীরেন পাল, রাম পাল, রমেশ পাল ও রামচরের সুশিল পাল ও মন্টু পাল মৃৎশিল্পের বাজারের চাহিদা মোতাবেক সুনামের সাথেই মৃৎশিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

সময়ের আবর্তে চাহিদা কমতে থাকলে জীবিকা নির্বাহে তাগিদে মৃৎশিল্প ছেড়ে অনেকেই বিভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছেন। কেউ কেউ মৃৎশিল্পের স্মৃতি বহুল এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি জমিয়েছেন। শুধুমাত্র রামচরে সুশিল পালের পরিবার তাদের পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্যকে জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ধরে রাখতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু লোকাসানের পরিমাণ বাড়তে থাকায় এবছর আর পারা (ডাইস) বসিয়ে চাকতি ঘুরানো প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়েছেন তারা।

মৃৎশিল্পি যতিন্দ্র লালের সরকারী পৃষ্ঠপোশকতায় সন্তুষ্টি অসুন্তষ্টি নিয়ে কোন আক্ষেপ না থাকলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাষ্টিক ও মেলামাইন সামগ্রির প্রভাবে বাঙ্গালীর ঐতিহ্যবাহী পরিবেশ বান্ধব মৃৎশিল্পের তৈজসপত্র ধরে রাখতে না পারার বেদনার কথা বলেন। তিনি জীবিকা নির্বাহের তাগিদে কৃষি কাজে আত্বনিয়োগ করে সন্তানদের টেইলারিং ও স্বর্নকার পেশায় নিয়োজিত করেছেন এবং মাটির শিল্পের সাথে জড়িত পরিবারের নারী সদস্যরা কৃষিকাজে সহায়তা করছেন বলে জানান।

মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা একান্ত জরুরী, সরকার যদি কুমোর সম্প্রদায়কে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে কিছুটা সহয়তা দিতে পারে তাহলে মৃৎশিল্পের সোনালি দিন ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনের করেন সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ মজিদ।

মুলাদী উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার উত্তম কুমার বিশ্বাস জানান, মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের সেলিমপুর ও রামচর গ্রামে মাত্র ২টি পরিবার মৃৎশিল্পকে ধরে রেখেছেন। সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক তাদের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। মন্ত্রনালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা মোতাবেক মৃৎশিল্পীদের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

এলাকার সচেতনমহল এই মৃৎশিল্পীদের উন্নয়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত আন্তরিক সহযোগিতা ও আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network