

মোঃ মিকাইল হোসেন : রাজধানীর ধানমন্ডি রোড নম্বর নং ৯/এ এলাকায় বেপরোয়া ও দ্রুতগতি মোটরসাইকেল চালানোর আরেকটি উদ্দেশ্য জনক ঘটনা জনমনে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। গতকাল ধানমন্ডি রোড নং- ৯/এ ব্যস্ত সড়কে এক পথচারী গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পথচারী সুমন (২৮) রাস্তার বাম পাশে দাঁড়িয়ে একটি রিক্সা ভাড়া নিয়ে গন্তব্য যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে রং সাইড দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে আসা একটি ডিসকভারি মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনায় পথচারীর একটি পা গুরুতরভাবে ভেঙে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিতি লোকজন দ্রুত আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,মোটরসাইকেল চালক ছিলেন আনুমানিক ২২ বছর বয়সী এক যুবক। তিনি হেলমেট ছাড়া বেপরোয়া দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি সড়কের নিয়ম অমান্য করে রং সাইট দিয়ে এসে পথচারী কে সজোরে ধাক্কা দেন।এমন দায়িত্বহীন ও বেপরোয়া দ্রুতগতির মোটরসাইকেল চালানো দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার,বিশেষ করে ধানমন্ডির মতো ব্যস্ত নগর অঞ্চলে, এক শ্রেনীর তরুণ মোটরসাইকেল চালক সড়কে যেন প্রতিযোগিতার মাঠে পরিণত করেছে। হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো,রং সাইডে চলাচল, অতিরিক্ত গতি, অপ্রয়োজনীয় হর্ন এবং বিকট শব্দের পরিবর্তিত সাইলেন্সার ব্যবহার-এসব এখন নগরবাসীর প্রতিদিনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিকট শব্দের সাইলেন্সার ব্যবহার করে এক শ্রেণীর মোটরসাইকেল চালক শুধু সড়কে আতংক ছড়াচ্ছে না, মারাত্মক শব্দ দূষণ ও সৃষ্টি করছে।আবাসিক এলাকা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,হাসপাতাল ও ব্যস্ত নগর সড়কে এসব বিকট শব্দ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। শিশু, বৃদ্ধ, রোগী ও শিক্ষার্থীরা, সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
সচেতন মহলের মতে,বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো এখন শুধু ট্রাফিক আইন ভঙ্গের বিষয় নয়;এটি নগর নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি।প্রতিনিয়ত রং সাইডে চলাচল, নিয়ম অমান্য করে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানো এবং শব্দ দূষণ সৃষ্টি করে এক শ্রেনীর মোটরসাইকেল চালক সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।তাদের মতে, দুর্ঘটনার পর বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ, হেলমেট বিহীন চালকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক জরিমানা করতে হবে এবং বিকট শব্দের অবৈধ সাইলেন্সার ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। নগরসড়ক কারো ব্যক্তিগত রেসিং ট্র্যাক নয় – এটি জনসাধারণের নিরাপদ চলাচলের পথ।
তাই জনস্বার্থে, জন নিরাপত্তায় এবং নগরবাসীর স্বস্তির জন্য এখনই বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের লাগাম টেনে ধরা জরুরী। আজ একজন পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন, কাল হয়তো এমন বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর কারণে ঝরে যেতে পারে আরেকটি প্রাণ।

Posted ১২:৩৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা | Gano Barta


