

স্টাফ রিপোর্টার: পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তরুণদের আন্দোলনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।তার পদত্যাগকে বড় ধরনের বিজয় হিসেবে দেখছে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সরকারের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের পর নিজেদের অন্যান্য দাবিও মেনে নেয়ার আশ্বাস পাওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।এরই মধ্যে দেশটির নতুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর তাকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তাবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি আগের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তিনি পালন করবেন।ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে উল্লাসে ফেটে পড়েন হাজার হাজার তরুণ। কেউ জাতীয় পতাকা হাতে নাচতে থাকেন। লাউড স্পিকারে ভারতের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপি লিখেছে, ‘ককরোচদের জয় হয়েছে, গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র যন্তর মন্তরের অস্থায়ী মঞ্চ থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘আমরা করে দেখিয়েছি।’ তার এ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা আন্দোলনকারীরা উল্লাস ও স্লোগানে ফেটে পড়েন। পরে এক বিবৃতিতে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘মনে রাখবেন, ককরোচের সঙ্গে লাগতে যাবেন না। সিজেপির নেতৃত্বে চলা এ আন্দোলন সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছিল। বিরোধী দলগুলোর সমর্থন, সংসদে প্রতিবাদ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস এবং কথিত পেলেট গানের ব্যবহারে বহু শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয়।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তিনি লিখেছেন, যন্তর মন্তরসহ সারা দেশে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে যাতে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ কাজে লাগাতে না পারে, সে কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।প্রধান বলেন, ‘দেশের তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায়সংগত প্রত্যাশার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশকে সেবা করার সুযোগ পাওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। গত মে মাসে ভারতের উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক মেডিকেল কলেজ ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। পরে ফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হন। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার নৈতিক দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।সিজেপির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে পরীক্ষার ফল বাতিল ও পুনঃপরীক্ষার চাপে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ, আন্দোলনে অংশ নেয়া কারো বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা আইনি ব্যবস্থা না নেয়া এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার জন্য দিল্লি পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা।শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন সিজেপির প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সব দাবি মেনে নেয়ার কথা জানানো হয়েছে।তিনি বলেন, ‘আমাদের সব দাবি মেনে নেয়া হয়েছে। তাই আমরা আন্দোলনকারীদের অবিলম্বে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করছি।’ সিজেপির আরেক মুখপাত্র জানান, সরকারের কাছে একটি লিখিত নিশ্চয়তার খসড়া দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়ার কথা রয়েছে।
সরকারের একজন মন্ত্রীও জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের দাবি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না—এমন নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই সিজেপি ‘সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে’ বিক্ষোভ শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।তবে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা এলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে মানুষের ঢল অব্যাহত ছিল। কেন্দ্রীয় দিল্লির প্রধান সড়কগুলোয় তরুণদের মিছিল ও উদযাপন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনস্থলের আশপাশের কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়। নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিলেন দিল্লি পুলিশ ও আধাসামরিক র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের অন্তত এক হাজার সদস্য। অনেকেই দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম পরে অবস্থান করছিলেন। সন্ধ্যার পর দিল্লি মেট্রোর সব স্টেশনের প্রবেশপথ পরে খুলে দেয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যন্তর মন্তর এলাকায় কয়েক দিন ধরে বন্ধ থাকা মোবাইল ইন্টারনেটও পুনরায় চালু করে কর্তৃপক্ষ।ককরোচ’ আন্দোলনের শুরু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই এটি প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং সরকারি জবাবদিহির দাবিতে বৃহত্তর তরুণ আন্দোলনে রূপ নেয়। মিম, রিলস, ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও ও অনলাইন প্রচারণা আন্দোলনকে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অনেক তরুণ বিক্ষোভে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি, পুলিশের ধাওয়া থেকে দৌড়ে পালানো কিংবা কাঁদানে গ্যাসের অভিজ্ঞতা নিয়েও ভিডিও তৈরি করেন। আন্দোলনকারীদের মতে, হাস্যরস তাদের প্রতিবাদকে হালকা করে দেয়নি; বরং এটি তরুণদের কাছে আন্দোলনের বার্তা পৌঁছার শক্তিশালী ভাষায় পরিণত হয়েছিল।জুনে যন্তর মন্তরে কয়েকশ তরুণের উপস্থিতিতে শুরু হওয়া আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয় পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন। তিনি আন্দোলনের সমর্থনে টানা ২৬ দিন অনশন করেন। অনশনের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সমর্থন জানাতে হাজার হাজার মানুষ যন্তর মন্তরে আসতে শুরু করেন।১৮ জুলাই পুলিশ তাকে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়। হাসপাতালেও অনশন চালিয়ে যান ওয়াংচুক। শুক্রবার ভোরে তিনি অনশন ভাঙেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে ‘শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ওয়াংচুক। এক্সে দেয়া বার্তায় তিনি সিজেপি, তরুণ প্রজন্ম এবং দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেয়া নাগরিকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পর এখন শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দিকে এগোতে হবে।তবে বিরোধী দলগুলো সহিংসতার জন্য পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীকে দায়ী করেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ওপর পেলেট গানও ব্যবহার করা হয়েছে। ভিডিও যাচাইয়ে নিরাপত্তা সদস্যদের আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের দৃশ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে তরুণদের বড় বিজয় হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরাসরি দায়ী। দিল্লি পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় তিনি বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের ঘোষণাও দিয়েছেন।
আন্দোলন চলাকালে পশ্চিমবঙ্গ, তেলেঙ্গানা, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্রসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থী ও বিরোধী সমর্থকরা বিক্ষোভ করেন। কোথাও কোথাও শ্রেণী কার্যক্রম বর্জন করা হয়। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, আয়ারল্যান্ড ও জার্মানিতেও ভারতীয় প্রবাসীরা সংহতি সমাবেশ করেছেন। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেও তরুণরা মশাল মিছিল করে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান।পরিস্থিতি সামাল দিতে মোদি সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে ধারণ করা ভিডিও বার্তায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কষ্ট পাওয়ার কথা জানিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। শেষ পর্যন্ত সেই দাবি মেনে নিতে বাধ্য হলো মোদি সরকার।৫৭ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র প্রধান ২০২১ সাল থেকে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। নরেন্দ্র মোদি ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় ছিলেন। এর আগে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ইস্পাত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।প্রধানের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসবিরোধী আন্দোলনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ যোগসূত্র রয়েছে। ছাত্রজীবনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের নেতা থাকা অবস্থায় তিনি ১৯৯৭ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই আন্দোলনে পুলিশের লাঠিপেটায় তিনি নিজেও আহত হয়েছিলেন। প্রায় তিন দশক পর একই ধরনের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীর পদ ছাড়তে হলো তাকে।মোদির ১২ বছরের শাসনামলে কেলেঙ্কারির পর পদত্যাগ করা দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবরে একাধিক নারীর যৌন হয়রানির অভিযোগের মুখে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পদ ছেড়েছিলেন এম জে আকবর। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশ্নপত্র ফাঁস আন্দোলনের তাৎক্ষণিক কারণ হলেও এর ভেতরে ভারতের তরুণদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমা হয়েছিল। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা লাখ লাখ তরুণের কাছে উন্নত জীবনের একমাত্র পথ। সেই ব্যবস্থায় অনিয়ম হলে তারা শুধু পরীক্ষার ফল নয়, রাষ্ট্রের ন্যায্যতা ও সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যন্তর মন্তরের মঞ্চ থেকে আন্দোলনকারীরা বিরোধী রাজনীতিকদের উদ্দেশেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের স্লোগান ছিল, ‘বিরোধী দলে আছেন বলে বেশি হাসবেন না। জবাবদিহি এখন একটি ব্যবস্থা। আপনাদের কাছেও একই প্রশ্ন করা হবে।

Posted ৯:২১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা | Gano Barta


