আজ, Thursday


১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শিরোনাম

গলাচিপায় নিম্নমানের ইটে ব্রিজের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
গলাচিপায় নিম্নমানের ইটে ব্রিজের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের অভিযোগ
সংবাদটি শেয়ার করুন....

মহসিন হোসেন জয় : পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া বাজারে ব্রিজের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ চলায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এদিকে কাজ বন্ধে গণঅধিকার পরিষদের নেতা পরিচয়ে এক ব্যক্তি বাধা দিলেও একই সংগঠনের নেতা পরিচয়ে অন্য এক ব্যক্তি নিম্ন মানের ইট দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকল্পের কাজের স্বচ্ছতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন আগে গজালিয়া বাজারে ব্রিজের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। কাজ বন্ধের জন্য ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আল মামুন বাধা দেন। অন্যদিকে কবির হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি গণঅধিকার পরিষদের নেতা পরিচয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কবির হোসেন প্রথমে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে কাজ বন্ধ করেছিলেন। পরে তার নির্দেশেই আবার নিম্ন মানের ইট দিয়ে কাজ শুরু হয়। এরপর মামুন এসে পুনরায় কাজে বাধা দেন। ফলে এক পক্ষের বাধায় কাজ বন্ধ এবং অন্য পক্ষের নির্দেশে কাজ চালুর ঘটনায় জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা নিতে কাজ বন্ধ ও চালু করছেন নেতারা। স্থানীয় অনেকে জানিয়েছেন কবির হোসেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কাজ চালু করছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ডিপ-২ প্রকল্পের আওতায় ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫১ মিটার ব্রিজ ও এপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজের ওর্ডার হয়। কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পটুয়াখালীর মহিউদ্দিন আহমেদ। প্রকল্প এলাকায় ব্রিজ নির্মাণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না করায় চলাচল অনুপযোগী ছিল। গত কয়েকদিন দিন পূর্বে ব্রিজের এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ শুরু হয়।

সরেজমিনে গিয়ে নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের দৃশ্য দেখা যায়। ট্রলার ভর্তি করে ইট এনে ফেলা হচ্ছে রাস্তায়। ব্রিজের একদিকে এপ্রোচ সড়কের পাশে বড় ডোবা থাকলেও সুরক্ষার জন্য কোন গাইড ওয়াল নির্মাণ করা হয়নি। গাছের ডাল দিয়ে কোন রকমে রাস্তার মাটি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেও নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া যায়। এদিকে নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও প্রকল্প এলাকায় এলজিইডির কার্যকর নজরদারি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের দাবি, কাজ চলাকালে এলজিইডির কোনো প্রতিনিধি বা প্রকৌশলীকে নিয়মিতভাবে প্রকল্প এলাকায় দেখা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের গজালিয়া ইউনিয়ন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আল মামুন বলেন, “আমরা স্থানীয় জনগণ হিসেবে নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করায় বাধা দিয়েছি। রাস্তায় নিম্ন মানের ইট ব্যবহার করা যাবে না। কেউ গণঅধিকার পরিষদের নেতা পরিচয়ে নিম্নমানের কাজ চালানোর নির্দেশ দিলে সেটা মানা হবে না। আর কবির হোসেনের কোনো পদ-পজিশন নেই। তিনি একবার বাধা দিয়ে এখন কেন কাজ চালাতে বলছেন কেন, তা জানি না।” তার মতে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিম্ন মানের ইট দিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে কবির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি এবং মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নাদিম বলেন, “কিছু ইট নিম্নমানের রয়েছে। সেগুলো ভালো ইটের সঙ্গে মিশিয়ে কাজ হচ্ছে। তার মতে, প্রায় ৩০ শতাংশ ইট খারাপ হতে পারে, বাকি ইট ভালো।” তিনি আরও বলেন, কাজ বন্ধের বিষয়টি বারবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে। আর কাজ বন্ধের জন্য তাকে হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন দাস বলেন, “নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে আমরা কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি কিন্তু ঠিকাদারের ম্যানেজার কথা শুনে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাস্তা থেকে নিম্ন মানের ইট সরাতে ঠিকাদার বাধ্য।

গলাচিপা উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে নির্মাণকাজের মান যাচাই, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী অপসারণ এবং প্রকল্পের নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:২২ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

দৈনিক গণবার্তা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদকঃ শাহিন হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ মোঃ শাহ পরান হাওলাদার

বিপিএল ভবন (৩য় তলা ) ৮৯, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা ।

মোবাইল : ০১৭১৫১১২৯৫৬ ।

ফোন: ০২-২২৪৪০০১৭৪ ।

ই-মেইল: ganobartabd@gmail.com