

এম, শাহজাহান : শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্ত পথ দিয়ে চলছে অবৈধ চোরাচালান ও জমজমাট মাদক ব্যবসা। স্থানীয় চোরাকারবারিরা ভারত থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা মুল্যের মাদক চোরাই পথে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচার করে আসছে। আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে মাদক জব্দ ও মাদক কারবারিদের আটক করা হলেও বন্ধ হচ্ছেনা মাদক পাঁচার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মামলা দিয়ে আদালতে পাঠলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে এসে আবারও শুরু করছে মাদক পাঁচার। জানাগেছে,
পাহাড়ি সীমান্ত পথে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে মাদক পাঁচার করে আসছে মাদক পাঁচারকারিরা। উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের হলদীগ্রাম, সন্ধ্যাকুড়া, গোমড়া, রাংটিয়া, সালচুড়া ফাকরাবাদ ও কাংশা ইউনিয়নের তাওয়াকোচা, গরুচরনদুধনই, পানবর, ছোটগজনী, বড়গজনী, গান্ধীগাঁও হালচাটি, নকশীসহ বিভিন্ন গ্রামের সীমান্ত পথ দিয়ে অবাধে মাদক পাঁচার করে আসছে শতাধিক মাদক পাঁচারকারি। দিনেরাতে লাখ লাখ টাকা মুল্যের মাদকদ্রব্য পাঁচার করা হচ্ছে। এসব মাদক পাঁচারকারিদের মধ্যে রয়েছে নারী-পুরুষ, যুবক ও কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। সীমান্তের এসব পাহাড়ি গ্রামগুলোতে প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরেই গড়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ী। পাঁচারকৃত এসব মাদক কভার্ভ্যান, ট্রাক, দুরপাল্লার বাস, সিএনজি, অটোরিকশা সহ বিভিন্ন বাহনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচার করা হচ্ছে। শেরপুর সীমান্তের মাদক পাঁচার নিয়ন্ত্রণসহ আইনশৃংঙ্খলা রক্ষায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৮টি বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে । বিজিবি সদস্যরা মাদক পাঁচার নিয়ন্ত্রনে আনতে টহল জোরদার করেছে। কিন্তু স্থানীয় বাসীন্দাদের অসহযোগিতার কারনে মাদক পাঁচার রোধে হিমসিম খাচ্ছে বিজিবি। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলার ৫২ টি ইউনিয়নের হাট-বাজার, গ্রামে – গঞ্জে, পাড়া -মহল্লায় সর্বত্রই মাদকদ্রব্যের সয়লাব হয়ে পড়েছে। যত্রতত্র হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। নেশার টাকা জোগাড় করতে তরুনরা বেছে নিচ্ছে চুরি ও ছিনতাইয়ের পথ। ফলে তরুণ ও যুব সমাজ বিপদগামী হওয়ার পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। মাঝে মধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও পাঁচারকারিদের আটক করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মাদক পাঁচার বন্ধ হচ্ছে না।
অভিযোগ রয়েছে, মামলা দেওয়ার পর মাদক পাঁচারকারিদের আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। কিন্তু হাজত থেকে কয়েকদিনের মধ্যে বিষেশ ব্যবস্থায় জামিনে ছাড়া পেয়ে এসে আবারও শুরু করছে মাদক পাঁচার। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত পথে চলছে জমজমাট মাদক ব্যবসা। উপজেলার সীমান্ত পথ বর্তমানে মাদক পাঁচারের এখন ট্রানজিট রোড। উপজেলার হলদীগ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ির নায়েক সুবেদার মো, রাজু আহমেদ বলেন ,গত এক বছরেরও বেশি সময়ে পুরো সীমান্তে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বিজিবির অভিযানে। মাদক কারবারিদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। এদের জেলহাজতেও পাঠানো হয়েছে। কিন্ত মাদক কারবারিরা সহজে আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে এসে আবারও শুরু করছে মাদক পাঁচার। তিনি আরো বলেন মাদক পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের কোন সহযোগিতা তারা পাচ্ছেন না। এছাড়াও সীমান্তের রাস্তা ঘাটের বেহাল দশার কারনে মাদক পাঁচার প্রতিরোধে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, গত এক বছরের অধিক মসয়ের মধ্যে পুলিশী অভিযান চালিয়ে প্রায় কোটি টাকা মুল্যের মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক পাচারকারিদের নামে মামলাও দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন চোরাকারবারিদের আদালতে সোপর্দ করার পর আদালত থেকে কয়েকদিনের মধ্যে জামিনে ছাড়া পেয়ে এসে আবারও প্রাকাশ্যেই মাদক পাঁচার শুরু করছে। কোন কোন মাদক পাঁচারকারির নামে ১৫/২০ টি করে মাদক মামলাও রয়েছে। অথচ জামিনে ছাড়া পেয়ে এসে আবারও প্রকাশ্যেই চালিয়ে আসছে মাদক পাঁচার। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবির ময়মনসিংহ ৩৯ ব্যটালিয়ানের সেক্টর কমান্ডার লেঃ কর্নেল মো, নুরুল আজিম বায়জীদ। তিনি বলেন সীমান্তে মাদক পাঁচার রোধে বিজিবির জিরো টলারেন্স ঘোষনা করা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রনে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। এবিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, মাদক পাঁচার প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলার আহ্বান জানিয়েছেন।

Posted ৯:২৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা | Gano Barta


