

আশরাফুল সরদার : নাটোরের সিংড়া উপজেলার এক কলেজছাত্রী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে দীর্ঘদিনের প্রেমিককে বিয়ে করেছেন। তরুণীর দাবি স্বেচ্ছায় তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তবে মেয়েটির পরিবার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপত্তি জানিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে ওই তরুণী দাবি করেছেন, ধর্মান্তর ও বিয়ের সিদ্ধান্ত তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নিয়েছেন।
তরুণীর বর্তমান নাম অন্বেষা ইসলাম অর্পা (১৯) পূর্বের নাম ছিল অন্বেষা সাহা। তিনি সিংড়া উপজেলার হাটসিংড়া গ্রামের ব্যবসায়ী বিপ্লব কুমার সাহা ও বাসনা সাহা চন্দ্রিমার মেয়ে এবং রাজশাহী কলেজে অনার্সে অধ্যয়নরত। অন্বেষার স্বামী রিয়াজুল ইসলাম উদ্দিন রিয়াজ (২৩) সিংড়া ওয়ালটন মোড় এলাকার বাসিন্দা।
অন্বেষা ইসলাম অর্পা জানান, গত ৮ জুন তিনি স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। একই দিনে রাজশাহীতে প্রচলিত আইন ও ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী রিয়াজুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তারা একসঙ্গে সংসার করছেন। তিনি বলেন, “গত তিন বছর ধরে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নিজের বিশ্বাস ও ইচ্ছা থেকেই আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাকে কেউ জোর করেনি, ভয়ভীতি দেখায়নি কিংবা প্রলোভনও দেখায়নি।”
ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও বার্তায় অন্বেষা বলেন, পরিবারের সদস্যরা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং একাধিকবার পুলিশ নিয়ে এসে তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ কারণে তাঁদের আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে করা এক হলফনামায় অন্বেষা উল্লেখ করেন, ইসলামের প্রতি বিশ্বাস থেকে স্বেচ্ছায় কালেমা পাঠের মাধ্যমে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে “অন্বেষা ইসলাম অর্পা” রেখেছেন। হলফনামায় তিনি আরও বলেন, ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর কোনো ধরনের বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি বা প্রলোভন ছিল না।
এদিকে রিয়াজের দাদি সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রায়ই তাঁদের বাড়িতে এসে নাতি ও নাতবধূর খোঁজ করছে।
এ বিষয়ে কাটাখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তরুণীর বক্তব্য নেওয়া হবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Posted ৬:১০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা | Gano Barta


