আজ, বৃহস্পতিবার


২৫শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শিরোনাম

শীত শেষে ফের ঊর্ধ্বগতি সবজির বাজারে

শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
শীত শেষে ফের ঊর্ধ্বগতি সবজির বাজারে
সংবাদটি শেয়ার করুন....

নিজস্ব প্রতিনিধি : বলা হয়ে থাকে, কাঁচা পণ্যের দাম বেশি দিন স্থির থাকে না। তবে অস্বাভাবিকভাবে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম দীর্ঘদিন ধরেই চড়া। এরই মধ্যে শীতকাল এসে চলেও গেছে। সাধারণত এই ঋতুতে সবধরনের শাক-সবজিতে সয়লাব থাকে বাজার। কিন্তু তাতেও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালে আসেনি সবজির দাম। এই উচ্চমূল্যের ঘরেই খানিকটা ওঠানামা করে মূল্য। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে আবারও বাড়তি কিছু কিছু সবজির দাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বাজারে কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা বাড়তি দেখা গেছে বিভিন্ন সবজির দাম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকাল শেষ, শীতকালীন সবজিও শেষের দিকে। এই সময়ে আবার নতুন কিছু সবজিও আসবে বাজারে। সবমিলিয়ে দাম একটু বাড়তি। এমনকি আসন্ন রমজান মাসেও সবজির বাজার চড়া থাকবে বলেও ধারণা তাদের। এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলছেন, একটি সিজনের (ঋতু) শেষ, আরেকটির শুরু; এমন সময়েই আসছে রোজা। যে কারণে সবজির দাম বাড়তি থাকতে পারে।

রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের কাঁচা বাজারে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সবজির ব্যবসা করছেন সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ঋতুর এই মাঝামাঝি সময়টায় সবসময়ই সবজির দাম বাড়ে। আর শীতকালে সবজি যেহেতু বাজারে বেশি পাওয়া যায়। তাই এই সময় দাম একটু বেশি ওঠানামা করে।তিনি বলেন, ‘এবার রোজার মাসটা এমন সময় আসছে, যখন শীতের সবজির শেষ পর্যায়ে। আবার নতুন সবজিরও শুরুর দিকে। তাই বলাই যায়, এবার রোজায় সবজির দাম বেশিই থাকবে।আরেক সবজি বিক্রেতা মো. হোসেন বলেন, ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ অন্যান্য শীতের সবজির উৎপাদন কমে আসবে। তখন এসব সবজি বাজারে পাওয়াও যাবে কম, তাই দাম থাকবে বেশি। আবার করলা, ঢ্যাঁড়স, সজনে ডাঁটা বা এই সময়ের যেসব সবজি, সেগুলো নতুন আসছে। তাই এগুলোর দামও বাড়তি থাকবে। কিন্তু ক্রেতারা বলবেন যে, রোজার সময় আমরা (ব্যবসায়ী) দাম বাড়িয়ে দিয়েছি। কিন্তু এখানে আমাদের কোনো দোষ নেই।

ক্রেতা কাওসার হোসেন বলেন, ‘আমরা সারা বছরই তো বেশি দামেই সবজি কিনে খেলাম। সিজন তো খুব বেশি ভ্যারি করল না। কখনও অনেক বেশি দামে কিনি, আবার কখনও অল্প বেশি দামে কিনি। কম দাম বলতে যেটা বোঝায়, সেটা তো পাই না।’

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম ৬০ টাকা, শালগম ৫০ টাকা, টমেটো ৫০ টাকা, পেঁয়াজ কলি ৬০ টাকা, মটরশুঁটি ৮০-১০০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, শসা ৮০-১০০ টাকা, ক্ষিরাই ৮০ টাকা, উচ্ছে ১২০ টাকা, করলা ১৬০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধুন্দল ১০০ টাকা, বরবটি ১৪০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, সজনে ২০০ টাকা, কচুরমুখি ১২০, কাঁচা মরিচ ৬০ টাকা, ধনেপাতা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

আর প্রতিটি লাউ প্রতিটি ১০০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, ব্রকলি ৫০ করে পিস বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে দেখা যায়, পেঁয়াজকলি, লম্বা বেগুন, কচুরমুখি, উচ্ছে, ধুন্দল, বরবটির দাম বেড়েছে ১০ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত।

বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ‘রোজার মাস আসেনি, তাতেই বেগুনের দাম বেড়ে গেছে। রোজায় কত হয়, কে জানে।বাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা, লাল ও সাদা আলু ৩০ টাকা, নতুন দেশি রসুন ১৫০ টাকা, চায়না রসুন ২০০ টাকা, ভারতীয় আদা ২০০-২২০, চায়না আদা ২২০-২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক্ষেত্রে গত সপ্তাহের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, আজ আলুর দাম কমেছে ৫ টাকা এবং চায়না আদার দাম বেড়েছে ২০ টাকা।

পেঁয়াজের দাম কমা নিয়ে আলু-পেঁয়াজ বিক্রেতা শিমুল বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম কমবে বলে মনে হচ্ছে না। মানুষকে ১০০ টাকার ওপরেই পেঁয়াজ কিনে খেতে হবে।এছাড়া বাজারে ইলিশ মাছ ওজন অনুযায়ী, ১৭০০- ২৪০০ টাকা, রুই মাছ ৩৮০-৮০০ টাকা, কাতল মাছ ৪০০-৬৫০ টাকা, কালবাউশ ৫০০-৯০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৭০০-১২০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, কৈ মাছ ২৫০-১০০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০-৮০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-৮০০ টাকা, ট্যাংরা মাছ ৬০০-৮০০ টাকা, মেনি মাছ ৫০০-৮০০ টাকা, কাজলি মাছ ১১০০-১২০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০- ১২০০ টাকা, রূপচাঁদা মাছ ১০০০-১২০০ টাকা শোল মাছ ৭০০-১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯৮-২১০ টাকা, কক মুরগি ২৮৩-৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৮৫-২৯০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মুরগির লাল ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায় এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকা। মুদি দোকানের সব পণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। মসুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকা কেজি দরে। এছাড়া মোটা মসুরের ডাল ১১০ টাকা, মুগ ডাল ১৭৫ টাকা, খেসারি ডাল ১১০ টাকা, বুটের ডাল ১০০ টাকা, ছোলা ১০০ টাকা, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭৩ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৪৯ টাকায়। আর প্যাকেটজাত চিনি ১৪৫ টাকা, খোলা চিনি ১৪০, টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৫০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৩০ টাকা এবং খোলা সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৯০ টাকায়।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দৈনিক গণবার্তা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদকঃ শাহিন হোসেন

বিপিএল ভবন (৩য় তলা ) ৮৯, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা ।

মোবাইল : ০১৭১৫১১২৯৫৬ ।

ফোন: ০২-২২৪৪০০১৭৪ ।

ই-মেইল: ganobartabd@gmail.com