শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, সকাল ১১:৫৮
শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিলো বলেই আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি – ড. হারুন অর রশিদ বিশ্বাস মুলাদীতে শারদীয় দুর্গোৎসবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের মতবিনিময় খুলনায় স্বদেশ ইসলামী লাইফের বিশেষ উন্নয়ন সভা ঢাকা এঞ্জেল লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন, খাদ্য ও মাস্ক বিতরন ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর রাজশাহী বিভাগের উন্নয়ন সভা এনআরবি ইসলামিক লাইফের ব্যবসা উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত মুজিববর্ষ বধির দাবা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

“সহালে খাইলে বাকি দুবেলা না খেয়ে থাহি ”

আব্দুল্লাহ আল লোমান, জামালপুর থেকে  : “ঘরের চতুর পাশে বুক সমান পানি। কোন দিকে যাওয়ার উপায় নাইকে। রাতে শুইলে সাপের ভয়ে ঘুমও আসে না। আর ঘরে তো খাওন নাই। সহালে খাইলে বাকি দুই বেলা না খেয়ে থাহি ছাওয়াল পাওয়াল লয়ে। কেহ আমাগরে খোঁজখবরও নেয় না” ইসলামপুর উপজেলার চিনাডুলী ইউনিয়নের পশ্চিম বাবনা গ্রামের তিন সন্তানের জননী গোলাপী বেগম বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় সরেজমিনে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি আরও বলেন, “আমাগরে তো খাওন নাই,অবলা প্রাণী ছাগল-গরুর দিকে চাইলে বুকটা ফাইটা যায়। প্রতি বছরের এমন বন্যার কষ্ট কোন দিন কি দুর হবেনা”।

তার কথা শেষ হতে না হতেই ওই এলাকার মমতা, শেফালী,আলাউদ্দিনসহ আরও অনেকেই বলেন,গত সাত দিন থাইকা বাড়িঘরে পানি উঠছে অহন পর্যন্ত কোন মেম্বার চেয়ারম্যানরা খোঁজখবর লইনাই। এই পানিতে প্রশাব পায়খানা করতাছি আবার এই পানিই খাই আমরা, তাহলে বুঝেন কত কষ্টে আছি আমরা ছাওয়াল পাওয়াল লইয়া।

জানা গেছে,গত ২৪ ঘন্টায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি ৭ সেন্টিমিটার যমুনার পানি কমলেও এখনো বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সামান্য পানি কমলেও কমেনি বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ। এদের দুর্ভোগ দিন দিন ভেড়েই চলছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৯০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সড়কে পানি উঠায় দুর্গত এলাকায় ব্যহত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ। দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাত্র ২৬ মেক্ট্রিক টন জিআর চাল, শুকনো খাবার এবং গো-খাদ্যের বাবদ নগদ দই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে ইসলামপুর চিনাডুলী ইউপি’র চেয়ারম্যান আব্দুস ছালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যাইনি।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী জানান, জেলার সাতটি উপজেলার আটটি পৌরসভা এলাকা ও ৪৩টি ইউনিয়নে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪২ মানুষ বন্যার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত জেলার বন্যা কবলিত এলকায় ৬০ মেক্ট্রিক টন জিআর চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তবে আরও এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বন্যার জন্য জুন পর্যন্ত আমাদের তাই বরাদ্দ ছিল। তবে এখন নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ায় দু-একদিনের মধ্যে আমরা আবার নতুন বরাদ্দ পাবো। বরাদ্দ পেলে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান”।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network