মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮, দুপুর ১:৫৩
শিরোনাম :
৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর রাজশাহী বিভাগের উন্নয়ন সভা এনআরবি ইসলামিক লাইফের ব্যবসা উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত মুজিববর্ষ বধির দাবা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত উইংস গ্রুপ ও গার্ডিয়ান লাইফের মধ্যে গ্রুপ ইন্স্যুরেন্স চুক্তি স্বাক্ষর সেরা ব্যাংকের পুরস্কার পেল এনআরবিসি ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে এনআরবিসি ব্যাংক মার্কেন্টাইল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মাগুরা সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন

সামাজিক উদ্যোগে নারী

শিল্প সাহিত্য ডেস্ক : “পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”

পুরুষতান্ত্রিক এ সমাজে একজন নারীকে তার যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয় প্রতিনিয়ত। মানুষ হিসেবে নয় তার মূল্যায়ন হয় নারী হিসেবে। তবু নিজ মেধা এবং প্রজ্ঞা দিয়ে পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছে নারী। আমাদের জীবনের এমন একটি ক্ষেত্রও খুঁজে পাওয়া যাবে না যা নারীর পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠেনি। আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক প্রাঙ্গণে পুরুষ ও নারী কাজ করছে একই সাথে। বর্তমানে সামাজিক উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ পুরুষ হলেও অনেক নারী সামাজিক উদ্যোক্তা সারা পৃথিবীর বুকে তুলে ধরেছেন তাদের পরিচয়। তাদের সামাজিক উদ্যোগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এসেছে নতুন আঙ্গিক এবং ভিন্নতার ছোঁয়া।

সমাজের নানাবিধ সমস্যা চিহ্নিত করে তা সমাধানের লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয় সামাজিক উদ্যোগ। একজন সামাজিক উদ্যোক্তা সামাজিক কোনো সমস্যা সমাধানে বা সমাজে চলমান কোনো ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে উদ্যোগগুলি গ্রহণ করেন। তার প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে সামাজিক লক্ষ্য অর্জন করা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিক উদ্যোগ হচ্ছে বাণিজ্যিক কৌশল প্রয়োগ করে পরিবেশ ও মানুষের কল্যাণ সাধন করা। সামাজিক উদ্যোগ থেকে উদ্যোক্তা অর্থ উপার্জন করতেও পারেন, নাও করতে পারেন। সামাজিক উদ্যোগের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সামাজিক জীবনকে আরও উন্নত করে তোলা।

সারা বিশ্ব জুড়ে হাজার হাজার নারী মানুষের সামাজিক জীবনকে উন্নত থেকে আরও উন্নততর করে তোলার পেছনে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নারীর উদ্ভাবনী দক্ষতা, তার সৃজনশীলতা, যে কোনো সমস্যার সহজ সমাধান খুঁজে বের করার কুশলতা এবং পুরোনোকে নতুন করে দেখার দৃষ্টিভঙ্গী তাকে করে তুলছে একজন দক্ষ সামাজিক উদ্যোক্তা। যুগ যুগ ধরে চার দেয়ালের মাঝে বন্দী নারী জানে কী করে তার সামনে আসা বাধা অতিক্রম করতে হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে বিচিত্র প্রতিষ্ঠান পরিবার। আর পরিবারের সর্বময় কর্ত্রী একজন নারী। একজন নারী তার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সমস্যা বোঝে, তাদের চাহিদা বোঝে। সে জানে কীভাবে পরিবারের প্রতিটি মানুষকে ভালো রাখতে হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শিশুর যত্ন থেকে শুরু করে বাড়ির সুষ্ঠ পরিবেশ ও সকলের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে নারী।

সামাজিক নারী উদ্যোক্তারা উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা থেকে শুরু করে কাজ করছেন মানুষের সুস্বাস্থ্য ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা নিয়ে। কেউ কাজ করছেন মেয়ে শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে, কেউবা শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়ে। নারীরাই সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তৈরি করে দিচ্ছেন নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ। করে দিচ্ছেন হত দরিদ্র মানুষগুলোর মাথার উপর ছাদ টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা। কেউ নিচ্ছেন মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো পূরণের দায়িত্ব। প্রযুক্তিগত উন্নয়নেরও দায়িত্ব নিচ্ছেন নারীরা। সম্ভাবনার দুয়োর খুলে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষের মাঝে। বিশ্বসেরা সামাজিক কিছু উদ্যোগ নেয়া নারীদের মধ্যে রয়েছেন শিজা শাহেদ, সার্ভেইন মুয়াজান, ব্রিট গিলমোর, অড্রে চ্যাঙ, সাকিনা ইয়াকুবি, মল্লিকা দত্ত, হাইডি কুন প্রমুখ নারীরা।

জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। প্রায় ১৭০ মিলিয়ন মানুষের বসবাস আমাদের এই ছোট্ট দেশে। এই বিশাল জনসংখ্যার অর্ধেকই হচ্ছে নারী। কিন্তু সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকার একটি প্রধান কারণই হচ্ছে সমাজে নারীদের নিম্ন অবস্থান। তবে ক্রমশ এ চিত্রের পরিবর্তন ঘটছে। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতি ৫ জন সামাজিক উদ্যোক্তার মধ্যে একজন নারী। সামাজিক উদ্যোগে নারীরাই রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বর্তমানে প্রায় ২০% সামাজিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন নারীরা। মূলধারার প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এসকল প্রতিষ্ঠান। শতকরা ৪.৮ ভাগ মহিলা বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পালন করছেন প্রধান ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব।

বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নে নারীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। সমাজের সমস্যাগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে তার সমাধানে নারীরাই নিয়ে আসছে অভিনব আইডিয়া। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে তারা নারীদের জন্যই তৈরি করছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে করে দিচ্ছে উন্নত জীবনধারণের ব্যবস্থা। অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধু নয় সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে নিরাপদ স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা। মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়েও কাজ করে যাচ্ছে নারীরা।একটি উন্নয়নশীল দেশের সকল নাগরিকই তার উন্নয়নে কাজ করতে হবে। আমাদের দেশের নারীরাও আজ আর তাই ঘরে বসে নেই। নিজেরাই হয়ে উঠছেন উদ্যোক্তা এবং সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে করে দিচ্ছেন উদ্যোক্তা তথা স্বাবলম্বী হবার সুযোগ। সেদিন বেশি দূরে নেই, যেদিন বাংলাদেশের নারীদের নেয়া সামাজিক উদ্যোগগুলি পরিচিতি পাবে পুরো বুকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network