
আরফাতুল ইসলাম,উখিয়া প্রতিনিধি : কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য একটি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার। একই সঙ্গে মাদকাসক্ত এক যুবককে শাস্তির পরিবর্তে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আওতায় আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উখিয়া উপজেলার কোর্টবাজারের মনির মার্কেট এলাকার এক মাদকাসক্ত যুবককে নিয়ে তার অভিভাবকেরা ইউএনওর কার্যালয়ে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা ইউএনওকে জানান,মাদকাসক্তির কারণে ওই যুবকের আচরণে তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকায় তারা ছেলেকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন।
এ সময় ইউএনও পান্না আক্তার তাদের জানান,শুধু মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে কাউকে কারাগারে পাঠানো যায় না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী মাদক সেবনরত অবস্থায় আইনগতভাবে আটক বা শাস্তির বিধান থাকলে তবেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। অন্যথায় তাকে কারাগারে পাঠানো আইনসম্মত হবে না।
তিনি শাস্তির পরিবর্তে ওই যুবককে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন। এ জন্য তাকে মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানোর পরামর্শ দেন তিনি।
তবে যুবকের বাবা জানান,কক্সবাজার শহরে অবস্থিত একটি বেসরকারি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসার ব্যয় তাদের পরিবারের সামর্থ্যের তুলনায় অনেক বেশি। ছেলের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের অন্যান্য খরচ চালানোও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় এত বেশি চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে ইউএনওকে জানান তিনি।
জবাবে ইউএনও পান্না আক্তার বলেন,চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা যেতে পারে। এ বিষয়ে তার কাছে লিখিত আবেদন করলে তিনি প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবেন বলেও জানান।
একই সঙ্গে কার্যালয়ে উপস্থিত এনজিও প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন,উখিয়ায় একটি মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় তারা এগিয়ে আসতে পারেন। এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয়দের মতে,উখিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তির সমস্যা থাকলেও মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। ফলে অনেক পরিবারকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার শহরসহ দূরের প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত ও অন্যান্য খরচও বাড়ে। স্থানীয়ভাবে একটি মানসম্মত মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সহজ হওয়ার পাশাপাশি তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর সুযোগ বাড়বে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উখিয়া উপজেলা জাসাস সভাপতি জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন,একজন সরকারি কর্মকর্তা যখন মানুষের দুর্দশাকে শুধু আইনের দৃষ্টিতে না দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করেন,তখন সেটি সত্যিই প্রশংসনীয়। উখিয়ায় মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে ইউএনওর উদ্যোগের কথা বলা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক বার্তা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,মাদকাসক্তদের শুধু অপরাধী হিসেবে না দেখে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। উখিয়ায় একটি আধুনিক ও সাশ্রয়ী মাদক নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা হলে মাদকাসক্ত পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন তারা।