আজ, Thursday


৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শিরোনাম

মোটরসাইকেলে স্ত্রীকে নিয়ে ৬৪ জেলা ভ্রমণ, এবার স্বপ্ন ভারত-নেপাল-ভুটান

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
মোটরসাইকেলে স্ত্রীকে নিয়ে ৬৪ জেলা ভ্রমণ, এবার স্বপ্ন ভারত-নেপাল-ভুটান
সংবাদটি শেয়ার করুন....

আশরাফুল সরদার : নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিলদহর গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম। পেশায় একজন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে মহিমারী দাখিল মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। তবে শিক্ষকতার গণ্ডি পেরিয়ে তিনি এখন ভ্রমণপ্রেমীদের কাছেও এক অনুপ্রেরণার নাম। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, সাহস আর ভ্রমণের প্রতি গভীর ভালোবাসা তাঁকে এনে দিয়েছে এক অনন্য পরিচয়।

৫৬ বছর বয়সে নিজের ১০০ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেলে স্ত্রী ফেরদৌসী বেগমকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন তিনি। শুধু দেশ ভ্রমণেই থেমে থাকতে চান না; এবার তাঁর স্বপ্ন মোটরসাইকেলে ভারত, নেপাল ও ভুটান সফর করা।

১৯৯০ সালে মহিমারী দাখিল মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন তাজুল ইসলাম। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে তাঁর সুখের সংসার। বড় ছেলে তারিকুল ইসলাম শুভ একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে কর্মরত, দ্বিতীয় ছেলে তাসনিমুল ইসলাম সুপ্ত যশোর টেকনোলজি পার্কে কর্মরত এবং একমাত্র মেয়ে তানজিমা ইসলাম সুমি এইচএসসি শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

২০১৬ সালে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে তাঁর ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। জীবনের সেই কঠিন সময়কে সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করে তিনি উপলব্ধি করেন—জীবন শুধু বেঁচে থাকার জন্য নয়, সুন্দরভাবে উপভোগ করার জন্যও। সেই উপলব্ধি থেকেই শুরু হয় তাঁর ভ্রমণজীবনের নতুন অধ্যায়।

২০১৭ সালে প্রথম মোটরসাইকেলে যমুনা সেতু অতিক্রম করে দূরপাল্লার ভ্রমণ শুরু করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ঢাকা বিভাগ, ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বিভাগ, ২০২৩ সালে রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ, ২০২৪ সালে বরিশাল ও রংপুর বিভাগ এবং ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগ ভ্রমণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা সফরের স্বপ্ন পূরণ করেন।

সম্প্রতি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্রমণ করেছেন তিনি। দুর্গম পাহাড়ি সড়ক, আঁকাবাঁকা পথ ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেও তাঁদের এই যাত্রা ছিল রোমাঞ্চকর, আনন্দময় ও স্মরণীয়।

তাজুল ইসলাম বলেন, “ছুটি পেলেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ি। নতুন জায়গা দেখি, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হই। ভ্রমণই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ।” তিনি আরও বলেন, “আমার পরবর্তী স্বপ্ন মোটরসাইকেলে ভারত, নেপাল ও ভুটান ভ্রমণ করা। আল্লাহ সুস্থ রাখলে সেই স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। এজন্য সরকারের সহযোগিতা চাই।”

তাঁর ছেলে তাসনিমুল ইসলাম সুপ্ত বলেন, “আমি শুধু বাবাকে নিয়ে গর্বিত নই, কৃতজ্ঞও। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, বয়স কখনো স্বপ্ন পূরণের বাধা নয়। ইচ্ছাশক্তি আর সাহস থাকলে মানুষ অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে। সবাই আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।”

স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম বলেন, “তাঁর মতো জীবনসঙ্গী পেয়ে আমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করি। সংসারের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি আমাকে নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ঘুরে দেখিয়েছেন। সত্যিই বিনোদন ও ভ্রমণ মানুষের জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।”

এ বিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আশরাফুল সরদার বলেন, “তাজুল ইসলাম একজন সৎ, পরিশ্রমী ও সাহসী মানুষ। নিজের অর্থায়নে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ভ্রমণ সম্পন্ন করা নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তাঁর এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে দেশকে জানার এবং স্বপ্ন পূরণের সাহস জোগাবে। আমরা তাঁর ভারত, নেপাল ও ভুটান ভ্রমণের স্বপ্নও সফল হোক—এই দোয়া ও শুভকামনা জানাই।”

হৃদরোগের মতো কঠিন পরীক্ষাকে জয় করে, কোনো স্পনসর বা বিশেষ সহযোগিতা ছাড়াই শুধুমাত্র নিজের সাহস, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং ভ্রমণের প্রতি অদম্য ভালোবাসাকে পুঁজি করে এগিয়ে চলেছেন তাজুল ইসলাম। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রমাণ করে, বয়স কখনো স্বপ্ন পূরণের বাধা নয়; ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। আজ তিনি শুধু সিংড়ার নয়, সারা দেশের ভ্রমণপ্রেমী মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:৫৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

দৈনিক গণবার্তা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদকঃ শাহিন হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ মোঃ শাহ পরান হাওলাদার

বিপিএল ভবন (৩য় তলা ) ৮৯, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা ।

মোবাইল : ০১৭১৫১১২৯৫৬ ।

ফোন: ০২-২২৪৪০০১৭৪ ।

ই-মেইল: ganobartabd@gmail.com