

বরিশাল ব্যুরো: বরিশাল নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার হওয়া গাঁজার মামলায় সাগর খান অনিক নামে এক যুবককে আসামি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা তার বাবা-মাকে না পেয়ে নিরীহ ছেলেকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, তল্লাশির সময় অনিক ওই বাসায় উপস্থিত থাকায় তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকালে নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালায় কাউনিয়া থানা পুলিশ। এ সময় মান্না সুমন ও শিল্পির বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তল্লাশি চলাকালে মান্না সুমন ও শিল্পি ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। পরে উদ্ধার হওয়া গাঁজার ঘটনায় তাদের ছেলে সাগর খান অনিককে মামলার আসামি করা হয়।
ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক ব্যক্তির দাবি, অনিক মাদক বিক্রি কিংবা সেবনের সঙ্গে জড়িত নন। এমনকি তিনি সিগারেটও সেবন করেন না বলে দাবি করেন তারা। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, বাবার কথিত মাদক-সংশ্লিষ্টতার কারণে অনিক আলাদাভাবে বসবাস করতেন।
অনিকের মা শিল্পির অভিযোগ, “পুলিশ অন্যায়ভাবে আমার ছেলেকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছে। কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত না হয়েও সে দিনের পর দিন জেল খাটছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, তাদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের দায় তার নিরীহ ছেলের ওপর চাপানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তবে পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনজিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, ওই বাসায় তল্লাশির সময় ২০০ গ্রাম গাঁজা পাওয়া গেছে। সে সময় সাগর খান অনিক ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ কারণে তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, অনিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা, উদ্ধার হওয়া গাঁজার প্রকৃত মালিকানা এবং ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির প্রেক্ষাপট—এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং মামলার নথি, সাক্ষ্য ও তদন্তের তথ্য পর্যালোচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Posted ৬:৫৮ পিএম | মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা – গণমানুষের আওয়াজ | Gano Barta


