

বিশেষ প্রতিনিধি : দক্ষিণ বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতির অন্যতম ধারক-বাহক এবং বরিশাল বিভাগের দ্বিতীয় সেরা ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠান ভোলা সরকারি কলেজ। ১৯৬২ সালে তৎকালীন ভোলা মহকুমার এসডিও এম. এ. আজিজের মূল উদ্যোগ এবং আলতাজের রহমান তালুকদার, সোলায়মান মোল্লা, তোফাজ্জেল হোসেন মোল্লা, হাজী খোরশেদ আলম, ইলিয়াস মাস্টার ও হাবিবুর রহমান তালুকদারের মতো স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহায়তায় গড়ে ওঠে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ।
তবে পরিতাপের বিষয় প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও জেলার শীর্ষ এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি কোনো আধুনিক অডিটোরিয়াম।
বর্তমানে কলেজের ৯,১৭২ জন শিক্ষার্থীর (৫৫৪৭ জন ছাত্র ও ৩৬৯৫ জন ছাত্রী) জন্য রয়েছেন ৫২ জন শিক্ষক ও ৪৩ জন কর্মচারী । বিভাগীয় পর্যালোচনায় প্রশংসনীয় ফলাফল এবং বিশাল শিক্ষার্থী সংখ্যা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত ভৌত অবকাঠামোর অভাব এখন প্রকট। কলেজে একটি সুনির্দিষ্ট ও আধুনিক অডিটোরিয়াম না থাকায় জাতীয় দিবস, নবীন বরণ, বিদায় সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা কিংবা একাডেমিক সেমিনার আয়োজনে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের।
অডিটোরিয়ামের অভাবে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা কলেজের মাঠে অস্থায়ী প্যান্ডেল করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে ভিজে কিংবা তীব্র রোদে পুড়েই সম্পন্ন করতে হয় গুরুত্বপূর্ণ সব অনুষ্ঠান।
অডিটোরিয়াম নির্মাণের তাগিদ জানিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এমপি, মন্ত্রী ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ বিগত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একাধিকবার আশ্বাসের ফুলঝুরি শোনালেরও বাস্তব রূপ নেয়নি তার কোনোটিই । বছরের পর বছর ধরে বাস্তবায়িত হয়নি দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো।
এ বিষয়ে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইসরাফীল জানান, “আমরা একটি আধুনিক অডিটোরিয়ামের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিস্তারিত উল্লেখ করে একাধিকবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাবনা ও আবেদন পাঠিয়েছি।” ফাইলটি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ ও প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে ভোলা সরকারি কলেজে দ্রুত একটি সর্বাধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা।

Posted ৭:৩৬ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা – গণমানুষের আওয়াজ | Gano Barta


