আজ, Thursday


২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শিরোনাম

সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সই যুক্তরাষ্ট্রের

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি সই যুক্তরাষ্ট্রের
সংবাদটি শেয়ার করুন....

স্টাফ রিপোর্টার: চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি পেতে পারে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও তা দিয়ে পারমাণবিক বোমাও তৈরি করা সম্ভবপারমাণবিক চুক্তিতে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। যুগান্তকারী এ চুক্তির মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশটি একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে পারবে। খবর বিবিসি। চুক্তিটিকে ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এর ফলে সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য ‘ব্যাপক সুযোগ’ তৈরি হবে। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হয়নি। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি পেতে পারে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও তা দিয়ে পারমাণবিক বোমাও তৈরি করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নজিরবিহীন হবে এবং এতে আগে থেকেই অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা (বাইলেটারাল সেফগার্ডস) চুক্তিও সই হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই দুটি চুক্তি মিলিয়ে কয়েক দশকব্যাপী বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অংশীদারত্বের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসহ (নন-প্রলিফারেশন) একাধিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত লক্ষ্য এগিয়ে নেবে। সৌদি সরকারও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই চুক্তি দুই দেশের জ্বালানি খাতে বিদ্যমান সহযোগিতারই সম্প্রসারণ। এমন সময় ঘোষণাটি এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরো তীব্র হচ্ছে। দীর্ঘদিনের মিত্র সৌদি আরবে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের, স্থাপনাগুলো সম্প্রতি ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিরা দুদিন আগে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করেছে।

চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। তবে এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সমীক্ষা শেষে সৌদি আরবকে নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেয়া হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত একটি সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য জ্বালানি উৎপাদন করা হবে, ফলে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানির প্রয়োজন কমবে। এ প্রকল্পের আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে। কারণ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে মার্কিন কোম্পানিগুলো যুক্ত হতে পারে। এই ইউরেনিয়াম বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও তা দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্রও তৈরি করা সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নিশ্চিত থাকুন, চুক্তিগুলো পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে। একই সঙ্গে এগুলো বিশ্বের সর্বাধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানীদের ওপর নির্ভর করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রেই উন্নয়ন করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ আরো বলেছে, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা উভয়কেই শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি এটি পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও অস্ত্র বিস্তার রোধে উচ্চমান বজায় রাখবে এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরো মজবুত করবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তাদের অনেকেই এ চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের পথে নিয়ে যেতে পারে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে কয়েক দশক লাগতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:১৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

দৈনিক গণবার্তা |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদকঃ শাহিন হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ মোঃ শাহ পরান হাওলাদার

বিপিএল ভবন (৩য় তলা ) ৮৯, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা ।

মোবাইল : ০১৭১৫১১২৯৫৬ ।

ফোন: ০২-২২৪৪০০১৭৪ ।

ই-মেইল: ganobartabd@gmail.com