

মো: ইখলাছুর রহমান : সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও ঢাকার সাভার রাজস্ব সার্কেলের অধীন শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে চলছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি এই দপ্তরটি বহিরাগত দালাল ও অসাধু চক্রের আখড়ায় পরিণত হয়েছে, যার নেপথ্যে রয়েছেন খোদ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভূমি কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিদিন দাপটের সঙ্গে অবস্থান করেন স্বপন ও কাউসার নামে দুই ব্যক্তি। এর মধ্যে কাউসারকে ভূমি কর্মকর্তার পাশের কক্ষে সরকারি নথি ও ল্যাপটপ নিয়ে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করতে দেখা যায়।
প্রশ্ন উঠেছে, স্বপন ও কাউসার আসলে কারা? তারা কি ভূমিমন্ত্রণালয়ের কোনো সনদপ্রাপ্ত বা নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী? সরকারি পদে না থাকলে রাষ্ট্রীয় নথি সংবলিত দপ্তরে বসে কীভাবে নামজারি ও ভূমি সংক্রান্ত সংবেদনশীল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন? কার আশ্রয়ে বহিরাগতদের এভাবে খাসকামরায় বসার সুযোগ দেওয়া হয়েছে—তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ রয়েছে।
ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা নাসির খানের মুখোমুখি হলে তিনি দাবি করেন, স্বপন ও কাউসার নামে কাউকে তিনি চেনেন না।
একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নজর এড়িয়ে কীভাবে অচেনা ব্যক্তিরা তাঁর দাপ্তরিক কক্ষে বসে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করেন—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রের মাধ্যমে অফিসে অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ আদায় করা হয়।
সরকারি ভূমি অফিসের ভেতরে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ, দাপ্তরিক নথিপত্র নাড়াচাড়া এবং ঘুষ-দুর্নীতির এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ‘ছায়া কর্মকর্তা’ হিসেবে কাজ করা এই বহিরাগত সিন্ডিকেটের প্রকৃত ভূমিকা উন্মোচনে সাভার উপজেলা প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Posted ৭:২৪ পিএম | রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা – গণমানুষের আওয়াজ | Gano Barta


