আজ, Tuesday


১৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
শিরোনাম

কুড়িগ্রামে চরম ঝুঁকিতে পুষ্করনারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জরাজীর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
কুড়িগ্রামে চরম ঝুঁকিতে পুষ্করনারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জরাজীর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান
সংবাদটি শেয়ার করুন....

মোঃ জাকিরুল ইসলাম : কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার (কালীগঞ্জ ইউনিয়ন) একটি দুর্গম ও বন্যাপ্রবণ এলাকার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত পুষ্করনারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, সেখানে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আজ নানামুখী সংকটে জর্জরিত।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে নির্মিত বিদ্যালয়টির মূল ভবনটি দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যথাযথ সংস্কারের অভাবে আজ চরমভাবে জরাজীর্ণ। ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, যা শ্রেণিকক্ষকে পাঠদানের সম্পূর্ণ অনুপযোগী করে তোলে। এদিকে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত চিত্রও অত্যন্ত নাজুক। দুই তলা বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবনটির পিলারের ওপর নির্মিত কাঠামোর নিচতলাটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ও উন্মুক্ত। রক্ষণাবেক্ষণের কঠোর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এই উন্মুক্ত নিচতলার চত্বরটি স্থানীয়দের দৈনন্দিন নানা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে; এমনকি সেখানে পাট শুকাতে দেওয়া এবং অলস সময় কাটানোর মতো ঘটনাও ঘটছে। এছাড়া ভবনের বিভিন্ন অংশের পলেস্তারা খসে পড়া এবং রঙ চটে গিয়ে জীর্ণ রূপ ধারণ করায় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এমতাবস্থায় প্রতিনিয়ত মাথার ওপর মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন অত্র বিদ্যালয়ের ১২৬ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী ও ৬ জন শিক্ষক। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কে দিন কাটাই। অভিভাবকরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে উৎকণ্ঠায় থাকেন, কখন কী ঘটে যায়।

ভবন সংকটের পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বিদ্যালয়টি বাড়তি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। বন্যাপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয় ভবনটিকে প্রায়শই স্থানীয় লোকজনের দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এছাড়া বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নেই কোনো স্বাস্থ্যসম্মত ওয়াশ ব্লক বা উন্নত শৌচাগার ব্যবস্থা। ফলে স্যানিটেশন ব্যবস্থার চরম অবনতির কারণে ছাত্রছাত্রীরা বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালীন শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছে।

বিদ্যালয়ের বর্তমান সংকট উত্তরণে প্রধান শিক্ষক জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন একটি ভবন নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে এবং গণপূর্ত বিভাগে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে একটি আধুনিক ওয়াশ ব্লক নির্মাণের জন্য জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, অতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে স্থবির হয়ে পড়তে পারে। যেকোনো বড় দুর্ঘটনা এড়াতে এবং কোমলমতি শিশুদের একটি নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:০৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

hacked by trenggalek6etar |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

সম্পাদকঃ শাহিন হোসেন

সহকারী সম্পাদকঃ মোঃ শাহ পরান হাওলাদার

বিপিএল ভবন (৩য় তলা ) ৮৯, আরামবাগ, মতিঝিল, ঢাকা ।

মোবাইল : ০১৭১৫১১২৯৫৬ ।

ফোন: ০২-২২৪৪০০১৭৪ ।

ই-মেইল: ganobartabd@gmail.com