

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ব্রাজিলের স্কুলগুলোতে স্মার্টফোন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা গত (১৩ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর হবে নতুন আইন। এই আইনে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতি, যেমন- জরুরি অবস্থার সময়, শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে অথবা প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। এমন ব্যক্তি বা পরিস্থিতি ছাড়া আর কেউ স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারবে না।
ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা মানবিকতাকে অ্যালগরিদম দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে দিতে পারি না। তার মতে, এই বিল শিক্ষার প্রতি দায়বদ্ধ সব পেশাদারের কাজের স্বীকৃতি দেয়।
গত মে মাসে ব্রাজিলের অন্যতম শীর্ষ থিংক ট্যাংক ফান্ডাসাও গেটুলিও ভার্গাস জানিয়েছিল, ২০ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার দেশটিতে ২৫ কোটি ৮০ লাখ স্মার্টফোন ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থাৎ, সেখানে জনসংখ্যার চেয়েও স্মার্টফোনের সংখ্যা বেশি।
গবেষকরা জানান, ব্রাজিলের নাগরিকরা প্রতিদিন গড়ে ৯ ঘণ্টা ১৩ মিনিট ফোনের স্ক্রিনের সামনে কাটান, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। ব্রাজিলিয়ান শিক্ষামন্ত্রী ক্যামিলো সান্তানা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শিশুদের বয়সের শুরুতেই অনলাইনে যাওয়ার ফলে বাবা-মার জন্য তাদের কার্যকলাপ অনুসরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই, স্কুলে স্মার্টফোনের ব্যবহারে বিধিনিষেধ এটি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে। বিলটি ব্রাজিলের রাজনৈতিক মহলে বিরল সমর্থন পেয়েছে। উভয় পক্ষের সমর্থকরা এই বিলের পক্ষে ছিলেন। গত অক্টোবর মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা স্কুলগুলোতে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে। রিও ডি জেনিরোর এক বাবা বলেন, এটি (সেলফোন ব্যবহার নিষেধ করা) কঠিন, কিন্তু প্রয়োজনীয়। এটি স্কুলের জন্য অনুসন্ধান করতে সহায়ক, কিন্তু সামাজিকভাবে ব্যবহার করা ভালো নয়।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলিয়ান স্কুল স্মার্টফোন ব্যবহারে কিছু না কিছু বিধিনিষেধ দিয়েছে এবং ২৮ শতাংশ স্কুল এর ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ব্রাজিলের সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য সাও পাওলোর কর্তৃপক্ষ স্মার্টফোন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে। সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, যেমন- চীন এবং ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত আটটি রাজ্যে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার সীমিত করতে আইন পাস করা হয়েছে। ইউরোপের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন যে, স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে তরুণদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।

Posted ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৫
hacked by trenggalek6etar | Gano Barta


