

আশরাফুল সরদার : নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিলদহর এলাকায় অবস্থিত বিলদহর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কারিগরি ও সাধারণ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অবকাঠামো এখন জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকটি টিনশেড ঘর ও ভবন দীর্ঘদিনের পুরোনো। টিনের চাল ও দেয়ালে মরিচা ধরেছে। কোথাও টিন ক্ষতিগ্রস্ত, আবার কোথাও দরজা-জানালার অবস্থাও নাজুক। প্রতিষ্ঠানের চারপাশে পর্যাপ্ত সীমানাপ্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা সমস্যা। এ অবস্থায় দ্রুত অবকাঠামোগত সংস্কার, নতুন ভবন নির্মাণ ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুর রহিম জানান, বর্তমানে বিলদহর কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রায় ১৯০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানে শিক্ষক ও কর্মচারী রয়েছেন ২৫ জন।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ভালো। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও আমরা শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন খুবই জরুরি।”
প্রতিষ্ঠানের শিক্ষিকা নাজমা আক্তার বলেন, “প্রতিষ্ঠানের দুই পাশে প্রায় আধা কিলোমিটার করে কাঁচা রাস্তা রয়েছে। বর্ষাকালে এসব রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে আসতে অনেক কষ্ট হয়। বৃষ্টির দিনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যায়।”
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের রাস্তাটিও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। বর্ষা মৌসুমে রাস্তা কাদায় পরিণত হওয়ায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। তারা দ্রুত রাস্তা সংস্কার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল সরদার বলেন, “গত সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠানটিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করে কোনো উন্নয়ন তহবিল দেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন ভবন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হোক।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেবে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

Posted ৯:৪৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা – গণমানুষের আওয়াজ | Gano Barta


