
মোঃ নাদির হোসের, স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ী এলাকায় পরকীয়ার জেরে আখি আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী জাহিদ হাসানের (২৭) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে আশুলিয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ।
নিহত আখি আক্তার শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানার ঘাগড়া কবিরাজপাড়া এলাকার আবেদ আলীর মেয়ে। আটক জাহিদ হাসান একই জেলার নলিতাবাড়ী থানার সিটপাড়া এলাকার তাইজুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রায় তিন মাস পর বাসায় ফেরেন জাহিদ হাসান। এ সময় স্ত্রী আখি আক্তার তাকে ঘরে প্রবেশ করতে দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে জাহিদ আশুলিয়া বাজার থেকে একটি ছুরি কেনেন এবং রাতভর বাইরে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে।
পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে জাহিদ পুনরায় বাসায় ফেরেন। দরজা খোলা পেয়ে তিনি ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় আখি আক্তার তার সঙ্গে আর সংসার করবেন না বলে জানালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত জাহিদ হাসানের দাবি, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি রাগের মাথায় ছুরি হাতে নেন। এতে আখি আক্তারের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাটি তাৎক্ষণিক দাম্পত্য কলহের জেরে ঘটেছে, নাকি এর পেছনে পূর্বপরিকল্পনা ছিল—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘটনার আগে অভিযুক্তের ছুরি কেনা এবং পরদিন সকালে বাসায় ফেরার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
খবর পেয়ে আশুলিয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল হাই ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে অভিযুক্ত জাহিদ হাসানকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হত্যার পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং পরকীয়ার অভিযোগের সঙ্গে এ ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।