

ভূঁইয়া কামাল : বরিশাল জেলার মুলাদী পৌরসভার কৃতি সন্তান ডা: সাইয়েদুর রহমান বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে পদোন্নতি হয়েছে। তিনি মুলাদী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড হাওলাদার বাড়ী সভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা: আব্দুল খালেক হাওলদার ও মাতা সাফিয়া খাতুনের ৮ সন্তানের মধ্যে তিনি ৬ষ্ঠ।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস ডিগ্রী শেষ করেন। বিসিএস পাশ করে সরকারী চাকরিতে যোগদান করার পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেস-এ কর্মরত ছিলেন। মুলাদী উপজেলা হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন অবস্থায় ডা: সাইয়েদুর রহমান রোগীদের সেবায় অতন্ত্র প্রহরির ভূমিকায় ছিলেন। তিনি দিন-রাত রোগীর সেবায় সময় কাটাতেন। রোগীর স্বজনরা রাত ১২টা, ১টা, ৩টা ও ৪টায়ও সেবা নিতে আসলে তিনি সেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন। ছুটির দিনেও রোগীর সেবায় সময় কাটাতেন।
মুলাদী উপজেলার মানুষের কাছে ডা. মো: সাইয়েদুর রহমান শুধু একজন চিকিৎসক নন, তিনি দীর্ঘদিনের আপনজন ও নির্ভরতার প্রতীক ছিলেন। প্রায় ১৮ বছর মুলাদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও মানবিক সেবায় অসংখ্য মানুষ উপকৃত হয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দায়িত্বকে কখনো শুধু চাকরি হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের সেবা করাকেই নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, সহকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্য এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর মানবিক আচরনের কারণে সবার হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
ডা. মো: সাইয়েদুর রহমান বরিশালের সিভিল সার্জন পদে পদোন্নতি পাওয়ায় মুলাদী উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যাক্তিত্ব ও বিভিন্ন পেশার মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে। এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং মুলাদীবাসীর জন্যও অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। মাত্র কয়েক মাস আগে মুলাদী থেকে বরগুনার পাথরঘাটায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে বদলি হয়ে যান। তাঁর কর্মনিষ্ঠা, যোগ্যতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাই শেষ পর্যন্ত তাঁকে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। ডা. মো: সাইয়েদুর রহমানের এই পদোন্নতি প্রমাণ করে সততা, যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও মানবসেবা কখনো বিফলে যায় না। কর্মের স্বীকৃতি একদিন না একদিন আসবেই। তাই কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে গত ২৩.০৮.২০২৬ তারিখ বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে পদোন্নতি হয় ও যোগদান করেন। তার কাজের প্রতি সন্তুষ্ঠু হয়ে বিভিন্ন সময় সরকার কর্তৃক বিভিন্ন পুরুস্কারে ভূষিত করেন।
‘কাইযেন-২০১৭’: মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও রোগীদের উন্নত সেবা প্রদান করায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো: সাইয়েদুর রহমান জনপ্রশাসন পদক ‘কাইযেন-২০১৭’ লাভ করেন।
হেলথ মিনিস্টারস ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড-২০১৯: হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা দেশের মধ্যে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অর্জন করেছে হেলথ মিনিস্টার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০১৯। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সেবায় রোগীদের সন্তুষ্টি, মেডিকেল অফিসার ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, নার্সিং অফিসার, স্বাস্থ্যকর্মীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি, নিয়মশৃঙ্খলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় হাসপাতালটিকে অ্যাওয়ার্ডের জন্য নির্বাচন করা হয়। কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে বাংলাদেশের সেরা ১০টি উপজেলার মধ্যে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অন্যতম।
কোভিড-১৯: সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও আইসোলেশনে ও কোভিড আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়েছিলেন।
ভেষজ বাগান: মুলাদী উপজেলার গ্রামীণ জনপদ থেকে যখন মুল্যবান ভেষজ গাছ বিলুপ্তির পথে তখন মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সাইয়েদুর রহমান উদ্যোগ নিয়ে হাসপাতাল চত্ত্বরে ভেষজ বাগান করেছে। আকন্দ, আমলকি, নিম, অর্জুন, হরিতকি, জাম, আমরুজ, বানর লাঠি, শিমুল ও তুলসী গাছসহ প্রায় অর্ধশত বিভিন্ন ঔষধী গাছ লাগিয়েছেন। গাছগুলো যাতে ছাগল, গরু ও মানুষে নষ্ট করতে না পারে সেজন্য তিনি ভেষজ বাগানের চারিদিকে ইট ও লোহার খাঁচা দিয়ে দেয়াল ঘিরে দিয়ে সুরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।
কৃষ্ণচুড়া গাছ: মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্ত্বরটি সাজিয়ে ছিলো কৃষ্ণচূড়ার লাল ফুলে। হাসপাতালে প্রবেশ করার সময় গেটের সাথে দাঁড়িয়ে আছে সবুজের মাঝে শুধু লাল রঙের মূর্ছনা। প্রকৃতির এই অপরূপ রঙ্গের সাজ দেখে দু’চোখ জুড়িয়ে যায় স্বাস্থ্য সেবা নেয়া রুগী ও স্বজনদের। চোখে নেমে আশতো প্রশান্তি। ফুলের সৌন্দর্য ও সুন্দর পরিবেশ গড়ার লক্ষ্য উদ্যোগ নিয়ে কৃষ্ণচূড়া গাছ কিনে হাসপাতাল চত্ত্বরে লাগিয়েছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সাইয়েদুর রহমান। আজ গাছটিতে লাল ফুল ফোটে হাসপাতাল চত্ত্বরকে রঙিণ করে তুলেছে। মুখরিত করে তুলেছে রোগীদের। একটু সুস্থ্য হলেই রোগীরা ঘুরতে আসতে হাসপাতাল চত্ত্বরে। রুম থেকে উঁকি মেরে নয়নকে জুড়িয়ে নেয়।
বয়স্কো রাহিমার অনুভুতি: নাজিরপুর ইউনিয়নের রাহিমা (৫৫) বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে আমি ডা: সাইয়েদুরকে দেখাইয়া আইছি। ওই স্যারে অনেক ভালো ডাক্তার। তার দেয়া ওষুধে আমি ভালো হইতাম। হের কখনো রাগ দেহিনি। বরিশালের সিভিল সার্জন হইছে। এইডা মোদের গর্ব বাবা। আল্লাহ হেরে আরো বড়ো করুক।

Posted ৫:৪৯ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক গণবার্তা – গণমানুষের আওয়াজ | Gano Barta


