দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় অনিরাপদ পরিবেশ, চাঁদাবাজি, অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড, পণ্য পরিবহন ঝুঁকি, জালিয়াতিসহ নানান প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। আর দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন তারা।
গতকাল বুধবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘ব্যবসাবাণিজ্য সহজীকরণে উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার অত্যাবশ্যকীয়তা’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
সভায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন আমরা। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা চাই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির উন্নতি চাই। ব্যবসায়ীরা কারখানা বা দোকানে দিনশেষে নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে পথে ছিনতাইয়ের শঙ্কা থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় উদ্যোক্তারা নানান প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এ কারণে তারা ব্যবসা ও বিনিয়োগে আস্থা হারিয়ে ফেলছেন।
সভায় বাংলাদেশ ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মওলা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পট পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি। স্থল বন্দরের মাধ্যমে বিদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে ট্রাক ভাড়া করতে গিয়ে ব্যবসায় ব্যয় বাড়ছে। রাজধানীর লালবাগ, কোতোয়ালি, চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের নগদ টাকা পরিবহনে নিরাপত্তার স্বার্থে উক্ত এলাকায় সান্ধ্যকালীন পুলিশি টহল বাড়ানো প্রয়োজন।
মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী সৈয়দ মোহাম্মদ বশির উদ্দিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এখনো সক্রিয় ভূমিকা রাখছে না। বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি নেসার উদ্দিন খান তার বক্তব্যে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের নৈরাজ্যে এখন জনজীবনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, যা প্রতিরোধে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি লুৎফুর রহমান বাবু বলেন, মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে, এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন-ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি আলহাজ আবদুস সালাম, সাবেক সহসভাপতি এম আবু হোরায়রাহ, বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি নেসার উদ্দিন খান, বাংলাদেশ মনিহারি বণিক সমিতির সহসভাপতি হাজী ফয়েজউদ্দিন, ধামরাই ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।