শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৮ আশ্বিন ১৪২৯, রাত ৯:৫২
শিরোনাম :
জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে যুব সমাজকে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করেন : আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ্ রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ১৭০ মিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র : ব্লিঙ্কেন বিশ্ব শান্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে পদ্মা সেতুর ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর ১৪ দলীয় জোট সক্রিয় ও সম্প্রসারণ করতে হবে : ইনু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ইষ্টার্ণ রিফাইনারীতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ টেকসই বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করতে হবে : স্পিকার সাফ জয়ী নারী ফুটবল দলকে বীরোচিত সংবর্ধণা ইসলামী ব্যাংকে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মশালা শুরু
Logo

শুধু রাজনৈতিক মুক্তিই নয়, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যও ছিলো বঙ্গবন্ধুর



শুধু রাজনৈতিক মুক্তিই নয়, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যও ছিলো বঙ্গবন্ধুর
https://ganobarta.com/archives/7923

গণবার্তা ডেস্ক : বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, শুধু রাজনৈতিক মুক্তিই নয়, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুর। তিনি রোববার এফবিসিসিআই আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর অর্থনীতি ও বাণিজ্য ভাবনা বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন,পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের শোষন-বঞ্চনার কৌশল। শুধু রাজনৈতিক মুক্তিই নয়, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যও ছিলো বঙ্গবন্ধুর। তাই তাঁর ঘোষিত ছয় দফার মধ্যে তিনটিই ছিল অর্থনীতি বিষয়ক। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর এনে দেওয়া স্বাধীন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক মুক্তি আনার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেয়ার জন্য কোন কাজ করেন না। তাঁর প্রত্যেক সিদ্ধান্তের পেছনে দূরদর্শী পরিকল্পনা থাকে। চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। দেশ এসব সিদ্ধান্তের সুফল শিগগিরই পাবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশবিরোধীরা এখনও সক্রিয়। নানাভাবে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। এসব ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান জানান, বঙ্গবন্ধুর সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার কারণে দেশের রপ্তানিখাতে বৈচিত্র্য এসেছে। সদ্যস্বাধীন দেশে আমদানি-রপ্তানিতে বার্টার প্রথা চালু করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বেসরকারিখাতে এই পদ্ধতিতে ৪০ শতাংশ অপ্রচলিত পণ্য রপ্তানি করার শর্ত দিয়েছিলেন তিনি। ওই সিদ্ধান্তের কারণেই রপ্তানিখাতে চিংড়ি ও চা যুক্ত হয়েছিলো। পরবর্তীতে সরকারি বার্টারেও বিদেশী দেশগুলোকে এসব অপ্রচলিত পণ্য কিনতে বাধ্য করেছিলেন। উপদেষ্টা আরও বলেন, পরিত্যক্ত শিল্প রাষ্ট্রীয়করণ না করলে, স্থিতিশীলতা আসতো না। রাষ্ট্রীয়করণ করলেও, প্রশাসনিক দায়িত্ব ছিলো ব্যক্তিখাতে। ১৯৭৫ সালে বিরাষ্ট্রীকরণের নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তা বাস্তবায়নের আগেই তাকে হত্যা করা হয়।
এর আগে স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, কৃষি উন্নয়ন, শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ,সংস্কৃতি, নারী জাগরণ, গ্রামীন প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর দর্শনকে ধারণ করে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়তে বাণিজ্য খাতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তারই অংশ হিসেবে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কারিগরি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। যুদ্ধোত্তর বাস্তবতার নিরিখে সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার, প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে আপসহীন অভিযাত্রা, রাষ্ট্র নির্ভরতা থেকে ব্যক্তিখাতের বিকাশসহ বিভিন্ন দিকে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরেন ড. আতিউর রহমান।
এফবিসিসিআইয়েরর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর রক্তের মধ্যেই ছিলো মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির চেতনা। বঙ্গবন্ধুর পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁর সুযোগ্য কন্যার হাত ধরে দেশে অর্থনৈতিক মুক্তি ও সাম্য এসেছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে শিল্প ও সেবাখাত নির্ভর দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ।
এর আগে প্যানেল আলোচনায় এফবিসিসিআইয়ের প্যানেল উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ট্রেড ও ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তফা আবিদ খান জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী বৈষম্য কমাতে রাষ্ট্রীয়করণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর আমলে এলডিসিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণেই বাংলাদেশের রপ্তানি বানিজ্য আজকের পর্যায়ে এসেছে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র সভাপতি রিজওয়ান রহমান বলেন, প্রথম পঞ্চবার্ষিকি পরিকল্পনা দেশে ব্যক্তিখাতের বিকাশের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বার্টার পদ্ধতির কারণেই অনেক প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। অর্থনৈতিক কূটনীতিতেও বিশাল ভূমিকা রেখেছেন বঙ্গবন্ধু।

Developed by: Engineer BD Network