মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, রাত ৮:৩৬

ভুমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্ণীতির অভিযোগ করলেন দৃষ্টি শক্তিহীন মুক্তিযোদ্ধা

গণবার্তা রিপোর্ট: বরিশালের মুলাদীতে ভুমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্ণীতির অভিযোগ করেছেন এক দৃষ্টি শক্তিহীন (বার্ধক্যজনিত কারণে) বীর মুক্তিযোদ্ধা। গতকাল বেলা ১১টায় উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের টুমচর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লুৎফর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। তাঁর ভাতিজার সাথে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় সহকারী কমিশনার ঘুষ নিয়েছে বলে জানান। এঘটনায় তিনি গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন বলে জানিয়েছেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. রিয়াজুর রহমান ওই মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘুষ নেওয়ার পরেও দূর্ণীতি ও অনিয়মের আশ্রয়ে উল্টো তাঁর বিপক্ষে আদালতে মিথ্যা প্রতিবেদন দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তবে সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. রিয়াজুর রহমান ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে টুমচর মৌজায় জমি ক্রয় করে বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন। একই দাগে তার ভাইয়ের ছেলে মো. মনিরুজ্জামান জমি ক্রয় করেন। কিছুদিন আগে মো. লুৎফর রহমান তার ভোগদখলীয় জমিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে ভাইয়ের ছেলে বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত তদন্তের জন্য মুলাদী সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. রিয়াজুর রহমানকে দায়িত্ব দেন। লুৎফর রহমান আরও জানান, তদন্তে গিয়ে কর্মকর্তা তাকে কাগজপত্র নিয়ে ভুমি অফিসে দেখা করতে বলেন। সেখানে তিনি তাঁর নাতিকে নিয়ে যান এবং কর্মকর্তাকে কাগজপত্র ও ৫ হাজার টাকা দেন। কর্মকর্তা কাগজপত্র ফেরৎ দিয়ে আদালতে একটি অসত্য প্রতিবেদন দিয়েছেন। আমি জমি ভোগদখল থাকা সত্ত্বেও কর্মকর্তা বিষয়টি উল্লেখ করেননি। এছাড়া আমরা চাচা-ভাতিজা হলেও ভুমি কর্মকর্তা বিষয়টি এড়িয়ে আমাদের একই এলাকার বাসিন্দা উল্লেখ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রবীন রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান দুলাল জানান, বয়সের ভারে ন্যূজ্ব ও অন্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান বাড়িঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে জমি ভোগদখল করছেন। এখন তার ভাতিজা আদালতে মামলা করেছেন আর সহকারী কমিশনার (ভুমি) প্রতিবেদন প্রদানের ক্ষমতার অপব্যহার করেছেন। সহকারী কমিশনার একজন মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে টাকা নিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে কিভাবে মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিল করেন বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন হাওলাদার বলেন, মনিরুজ্জামান দীর্ঘ ২৫ বছরে একদিনের জন্য বাড়িতে থাকেননি। অথচ ভুমি কর্মকর্তা তাকে ভোগদখলদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া একজন অন্ধ মুক্তিযোদ্ধার দ্বারা শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা করেছেন ওই কর্মকর্তা।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমার জমিতে চাচা লুৎফর রহমান মুক্তিযোদ্ধার নাম ভাঙিয়ে জোড়পূর্বক ঘর নির্মাণ করতে চাইছেন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছি।

এব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে কোনো টাকা পয়সা গ্রহণ করিনি। তিনি যথাসময়ে কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। আমি যেসব কাগজপত্র পেয়েছি তার আলোকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network