মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৪ মাঘ ১৪২৮, সকাল ১০:৪২
শিরোনাম :
মুলাদীতে শিক্ষার্থীদের অনুমতি ছাড়াই মাদরাসায় ভর্তির আবেদনের অভিযোগ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার সরল উত্তরণ কৌশল প্রণয়ন করবে : প্রধানমন্ত্রী কনে দেখে ফেরার পথে প্রবাসী বরসহ নিহত-৩ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর মুলাদীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন মুলাদীতে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক প্যাদারহাট ওয়াহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন ওয়াহিবা আখতার শিফা প্রোটেক্টিভ লাইফ ও আইসিবি ক্যাপিটাল এর সাথে আইপিও সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর পূর্বের স্থানে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ‘এমভি অভিযান-১০’ লঞ্চে আগুনে প্রাণহানি ৪২, দগ্ধ ৭০: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

রবিশস্য নষ্ট করে জোড়পূর্বক বোরো ও ইরিধান করার অভিযোগ

মুলাদী প্রতিনিধি: মুলাদীতে রবিশস্য নষ্ট করে জোড়পূর্বক বোরো ও ইরিধান করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরপদ্মা বেপারীর হাট এলাকায় সরিষা, মুসুরি ও খেসারি ডালের ফসল নষ্ট করে বোরো ও ইরি ধান চাষের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এলাকার একটি মহল লাভের জন্য সেচ দিয়ে রবিশস্য নষ্ট করতে চাইছে বলে দাবি করেছেন চাষিরা। হঠাৎ করে বোরো ও ইরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় রবি শস্য চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এসব চাষিরা তাদের ফসল রক্ষার জন্য গতকাল সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত দাবি জানিয়েছেন।

চরপদ্মা গ্রামের মহসিন আকন জানান, বেপারীর হাট এলাকায় শতাধিক একর জমি রয়েছে। আমন ধান তোলার পরে অধিকাংশ কৃষক জমিতে সরিষা, খেসারি ও মুুসুরির ডাল চাষ করেছেন। কিছু দিন আগে চরপদ্মা গ্রামের আলমগীর তালুুকদারের নেতৃত্বে একটি মহল ওই বিলে বোরো ও ইরিধান করার সিদ্ধান্ত নেন। অনেক কৃষক টাকা পয়সা খরচ করে রবি শস্য চাষ করেছেন। এখন নতুন করে বোরো কিংবা ইরি চাষ করতে গেলে বাড়তি টাকা খরচ হবে। তাই রবি শস্য চাষিরা বোরো ইরি করার জন্য রাজি নয়। সেচ ব্যবসায়ীরা জোড়পূর্বক ওই জমি ভিজিয়ে কৃষকদের বোরো ও ইরি ধান চাষে বাধ্য করতে চাইছেন।

রবিশস্য চাষি আ. গণি বয়াতি জানান, সেচ ব্যবসায়ীরা আগে থেকে বোরো-ইরিধান চাষের বিষয়ে কৃষকদের অবগত করেননি। তাই বিলের ৭০/৮০ একর জমিতে সরিষা, খেসারি ও মুসুরি চাষ করা হয়েছে। সেচ ব্যবসায়ীরা কিছুদিন আগে বেপারীর হাট খালে সেচ পাম্প বসিয়েছেন। তারা প্রথমে জমি ভিজিয়ে দিয়ে ফসল নষ্ট করে দিবেন। পরে কৃষকরা বোরো চাষ করতে বাধ্য হবে। এতে অধিকাংশ কৃষকের ক্ষতি হবে। সেচ ব্যবসায়ীরা লাভের চিন্তা করছেন। কিন্তু সাধারণ কৃষকদের স্বার্থে রবি শস্য রক্ষা করা জরুরি।

ওই গ্রামের উকিল উদ্দীন চৌকিদার বলেন, সরকারি প্রণোদনায় কিছু কৃষক সরিষা চাষ করেছেন। তাদের ফলনও ভালো হয়েছে। এখন এই ফসল নষ্ট করে নতুন করে ধান করতে গেলে আমাদের বাড়তি খরচ হবে। এতে অনেক কৃষককে ঋণ করে বোরো ইরি চাষ করতে হবে।

ধান চাষের পরিকল্পনাকারী আলমগীর তালুকদার বলেন, কৃষকদের সাথে আলোচনা করেই সেচের মাধ্যমে বোরো ও ইরিধান করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কিছু চাষি আগে ভাগেই সরিষাসহ বিভিন্ন রবিশস্য চাষ করেছেন। তাদের ক্ষতি হলে আমাদের কিছুই করার নেই।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ হোসাইনী জানান, রবিশস্য চাষিদের আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য উপজেলা কৃষি দপ্তরকে নির্দেশণা দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পরে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network