মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৪ মাঘ ১৪২৮, সকাল ৯:২৮
শিরোনাম :
মুলাদীতে শিক্ষার্থীদের অনুমতি ছাড়াই মাদরাসায় ভর্তির আবেদনের অভিযোগ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার সরল উত্তরণ কৌশল প্রণয়ন করবে : প্রধানমন্ত্রী কনে দেখে ফেরার পথে প্রবাসী বরসহ নিহত-৩ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর মুলাদীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলার উদ্বোধন মুলাদীতে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক প্যাদারহাট ওয়াহেদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হলেন ওয়াহিবা আখতার শিফা প্রোটেক্টিভ লাইফ ও আইসিবি ক্যাপিটাল এর সাথে আইপিও সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর পূর্বের স্থানে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ‘এমভি অভিযান-১০’ লঞ্চে আগুনে প্রাণহানি ৪২, দগ্ধ ৭০: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

কুমারখালী তাঁতের গামছা পৃষ্টপোষকতা অভাবে বিলুপ্ত প্রায়

মোশারফ হোসেন কুমারখালী থেকে: কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলায় তাঁতের গামছা শিল্পের শ্রমিকরা চরম করোনা কালীন সময়ে দুর্দিনে মধ্যে রয়েছেন। তাঁত মালিকরা রয়েছে অর্থনৈতিক সঙ্কটে, কাঁচামালের মুল্যের উদ্যোগতি।  নানান প্রতিকূলতার কারণে উপজেলা এককালের প্রসিদ্ধ এই গামছা শিল্প বিলুপ্ত হতে চলেছে।এই,শিল্পের সাথে জড়িত  হাজার- হাজার শ্রমিক এখন বেকার হয়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এক সময়ের জনপ্রিয় তাঁতের গামছা পৃষ্টপোষকতা অভাবে বিলুপ্ত প্রায়। তাঁত শিল্পের সঙ্গে জড়িত ঝাওতলা গ্ৰামের সাহেব আলী জানান, উপজেলা জুড়ে হাতে গুনা কয়েকটি এলাকায় তাঁতের গামছা তৈরি হয় এখন।
 আধুনিকতার ছোঁয়া ও পৃষ্ঠপোশকতার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে কুমারখালী ঐহিত্যবাহী তাঁতের গামছা শিল্প। যদুবয়ারা গ্ৰামের কারিগর গফুর জানান এক সময় উপজেলা জুড়ে তাঁত পল্লি গুলো তাঁতের খটখট শব্দে রাত-দিন মুখরিত থাকতো, আজ সেখানে শোনশান নীরবতা। তবু বাপ-দাদার পেশা আঁকড়ে কোনোমতে টিকে আছে কয়েকটি পরিবার। শ্রমিক লীগ নেতা মনিরুল ইসলাম বলেন,  স্থানীয় ভাষায় এদের কারিগর বলা হয়। সুতো কিনে বিভিন্ন রং মিশিয়ে নিজেদের তাঁতে সুনিপুণ হাতে গামছা তৈরি করে তাঁত পল্লিতে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হত এই তাঁতের গামছা। আজ সেদিন কেবলই হারানো স্মৃতি। তবে উপজেলার প্রায় শতাধিক  পরিবার এখনও গামছা তৈরি করে কোনোভাবে পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। কিন্তু নানা সঙ্কটেও তারাও হারিয়ে যেতে বসেছেন এই শিল্প।
জীবনের শুরু থেকে বাপ-দাদার পেশা এ তাঁত চালিয়ে সারাদেশে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেন কুমারখালী তেবাড়িয়ার জাফর শেখ। জাফর শেখে র’ গামছা  সারাদেশে রপ্তানি হতো। তার অনুপস্থিতিতে ছেলে  খোকন শেখ, অনেক কষ্টে তাঁদের পেশা আঁকড়ে ধরে রেখেছে। জাফর শেখ বড় ছেলে জহুরুল  বাবার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে   ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দুটি তাঁতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জহুরুল জানালেন,  তাঁতের কাজ শিখে নিজের ঘরে বসে  গামছা তৈরী করি।
উল্লেখিত, কুমারখালী, খোকসা, ও কুষ্টিয়া, মিরপুর, পাংশা , লাঙ্গল বাঁধ, উপজেলায় প্রায় ৮০ হাজারেরও অধিক গামছা তাঁতী ছিল। এরমধ্যে খটখটি তাঁত, ১৪ হাজার হস্তচালিত পিটলং তাঁত ৪৪ হাজার ও বিদ্যুৎ চালিত ২০ হাজার প্রতি বছর ২শ’ ৬০ কোটি টাকা মূল্যের কাপড় তৈরি হত এ জেলায়।
২ কোটি ৮৮ লাখ পিস লুঙ্গি, ১৫ লাখ পিস বেডকভার, ৭২ লাখ পিস গামছা তোয়ালে উৎপাদন হত। এক সময় এ জেলায় বস্ত্রশিল্পের বার্ষিক আয় ছিল ৩শ’ কোটি টাকার উপরে। দেশের মোটা কাপড়ের চাহিদার ৬৩ ভাগ পূরণ করতো কুষ্টিয়ার তাঁতীরা। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এ তাঁত কাপড়ের ছিল ব্যাপক চাহিদা। বর্তমানে এ চাহিদা কমে ৩৫ ভাগে নেমে এসেছে। সব কিছুর দাম বাড়লেও আশানুরুপ তাঁতবস্ত্রের কোন দাম না বাড়ায় কুষ্টিয়ার ১ লাখ ১৪ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ৫০ হাজার তাঁত শ্রমিক পেশা ছেড়ে দিয়েছেন। এখনও পুরাতন পেশা হিসেবে এ পেশায় টিকে আছে কয়েক হাজার তাঁতী।কুমারখালী ঐতিহ্য তাঁত শিল্পের জন্য সরকারের নতুন করে ভাবতে হবে।কুষ্টিয়া তাঁত বোর্ডের তথ্য মতে, জেলায় ১৫ হাজার পাওয়ার লুম ও ২ হাজার হ্যান্ডলুমে ১ লাখ ৪০ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network