বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, বিকাল ৪:৪০

বর্বোরোচিত গ্রেনেড হামলার ১৬ বছর ॥ মুলাদীবাসীর হৃদয়ে আজও জাগ্রত মোস্তাক আহমেদ সেন্টু

আলমগীর হোসেন সুমন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে মানবপ্রাচীর তৈরি করে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্বোরোচিত গ্রেনেড হামলায় শহীদ হন তৎকালীন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল গ্রামের মরহুম আফসার উদ্দীন আহমেদ হাওলাদারের পুত্র মোস্তাক আহমেদ সেন্টু। শহীদ হওয়ার ১৬ বছর অতিবাহিত হলেও মুলাদী উপজেলার সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আজও জাগ্রত রয়েছে মোস্তাক আহমেদ সেন্টুর স্মৃতি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ সেন্টু উপজেলার সাধারণ মানুষের হৃদয়ের বড় অংশ দখল করে রয়েছেন। তাঁর নামে গড়ে তোলা হয়েছে শহীদ সেন্টু স্মৃতি সংঘ। সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় প্রতিবছর ২১ আগস্ট সকাল থেকে শহীদ মোস্তাক আহমেদ সেন্টুর গ্রামের বাড়িতে কোরআনখানি, কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে কোরআনখানি ও দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করেন সাধারণ নেতাকর্মীরা।

নিহত মোস্তাক আহমেদ সেন্টুর একমাত্র কন্যা আফসানা আহমেদ হৃদি ১৬ বছর আগে পিতা হারানোর কষ্ট না বুঝলেও বর্তমানে প্রতিটি মূহুর্তেই পিতৃস্নেহের অভাব অনুভব করছেন। পিতার আদর-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত আফসানা আহমেদ হৃদি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এণ্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন। ২১ আগস্ট এলেই হৃদি ও তার মা আইরিন সুলতানা বেবী কবর জিয়ারত করতে চলে আসেন গ্রামের বাড়িতে।

নিহত মোস্তাক আহম্মেদ সেন্টুর স্ত্রী মার্কেন্টাইল ব্যাংকের কর্মকর্তা আইরিন সুলতানা বেবী জানান ২০০৪ সালের ২১আগস্ট ছিল তাদের সপ্তম বিবাহ বার্ষিকী। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামীলীগের সমাবেশকে সফল করার লক্ষ্যে সেন্টু ২০ আগস্ট বাসা থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেননি। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা শেষে সেন্টুর এক বন্ধু মোবাইল ফোনে আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে স্বামীর প্রাণহীন নিস্পন্দ দেহ দেখতে পেয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্রেনেড হামলার মামলায় রায়ের অপেক্ষায় রয়েছি এবং আমরা ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছি।

প্রত্যক্ষদর্শী মুলাদী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ১৪ দলের সাবেক সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার ইউসুফ আলী এবং আওয়ামীলীগ নেতা সেন্টুর ঘনিষ্ঠ সহচর রাজিব হোসেন ভূইয়া রাজু জানান, গ্রেনেড হামলার দিনে যে ট্রাকে দাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাস বিরোধী ভাষন দিচ্ছিলেন তার পাশেই ছিলেন মোস্তাক আহমেদ সেন্টু। গ্রেনেড বিস্ফোরিত হলে প্রিয় নেত্রীকে রক্ষার জন্য নেতাকর্মীদের সাথে সেন্টুও মানব ঢাল তৈরি করেন। গ্রেনেডের শতশত স্পিন্টার সেন্টুর গায়ে বিদ্ধ হয়ে দেহ ক্ষত বিক্ষত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অচেতন সেন্টু ক্ষণিকের জন্য জ্ঞান ফিরে পেয়ে জানতে চেয়ে ছিলেন “নেত্রীর কি অবস্থা”। তখন তাকে আশ্বস্ত করা হয় জননেত্রী শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন। সেটাই ছিল সেন্টুর শেষ কথা, আর জ্ঞান ফিরে আসেনি।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পরিবার, শহীদ সেন্টু স্মৃতি সংঘ ও দলীয় নেতাকর্মীদের আয়োজনে ২১ আগস্ট কবর জিয়ারত, কোরআনখানী ও দোয়া মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network