বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, বিকাল ৩:৩৭

মানবপাচার রোধে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

গণবার্তা রিপোর্ট ॥ মানবপাচার রোধ ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পালেরমো প্রটোকলের ২০ বছর পূর্ণ হচ্ছে এ বছর। বিশ্ব মানাবপাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে মানবপাচার মোকাবিলায় অধিকারভিত্তিক পদ্ধতিকে সম্মিলিতভাবে সমর্থনের জন্য বাংলাদেশ সরকার, সুশীল সমাজ এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশে জাতিসংঘের মাইগ্রেশন নেটওয়ার্ক (বিডিইউএনএনএম) এবং মানবপাচারবিরোধী কারিগরি কার্যকরী দলের (কাউন্টার ট্রাফিকিং ইন পারসন্স টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপ) সদস্যরা।
সারা বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি মানুষ আধুনিক দাসত্ব কিংবা পাচারের শিকার। এদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি নারী, যাদের বেশিরভাগই যৌন নির্যাতনের শিকার। জাতিসংঘের ধারণা মতে, বাংলাদেশ পাচারের শিকার অনেক মানুষের উৎপত্তি ও গন্তব্যস্থল। এখানে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ পাচারের শিকার হন। সম্প্রতি বিশ্ব শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইউনিসেফ এবং ইউএনওডিসি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, করোনাভাইরাস মানবপাচার পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর প্রতিবছর ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি)’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে স্তরভিত্তিক র‌্যাঙ্কিং পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে ‘পাচার নির্মূলের ন্যূনতম মানসমূহ’ মেনে চলার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের প্রচেষ্টা পরিমাপ করা হয়। সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২০ সালের টিআইপি প্রতিবেদনে আগের বছরের দ্বিতীয় স্তরের ওয়াচ লিস্ট থেকে উন্নীত হয়ে বাংলাদেশ এ বছর দ্বিতীয় স্তরে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের তুলনায় ২০১৯ সালে মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসনীয়। এসব প্রচেষ্টার মধ্যে রয়েছে—অধিক সংখ্যক পাচারকারীকে দণ্ড দেওয়া, অধিক সংখ্যক শিকার ব্যক্তিকে চিহ্নিতকরণ, ২০০০ জাতিসংঘ টিআইপি প্রটোকল অনুসরণ করা, বাংলাদেশের পাচারবিরোধী আইনে নির্ধারিত সাতটি পাচারবিরোধী ট্রাইবুন্যাল গঠন।
প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের জন্য কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। সেসব সুপারিশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত পাচারের শিকার ব্যক্তি-বান্ধব বিচার ব্যবস্থা গঠনের আহ্বান জানায়।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো বলেছেন, ‘করোনা সংকটের সময়ে প্রথম সাড়া প্রদানকারীদের অপরিহার্য ভূমিকা আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেননা এই মহামারির সময়ে পাচারের ফলে ক্ষতিগ্রস্তরা আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। প্রথম সাড়া প্রদানকারীদের ছাড়া এ সেবা ও সহায়তা হতো যতসামান্য।’
এদিকে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিডিইউএনএনএম বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে। এতে অংশ নেবেন সরকার, জাতিসংঘ এবং নাগরিক সমাজের অংশীদাররা। ওয়েবিনারে বাংলাদেশে মানবপাচার সংক্রান্ত সামগ্রিক অবস্থা এবং মানবপাচারবিরোধী প্রচেষ্টার প্রভাব সম্পর্কে প্রতিবেদন তুলে ধরা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network