বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, বিকাল ৩:৪৮

ঈদের ছুটি বৃদ্ধি, বেতন ও বোনাসের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

ঢাকা ব্যুরো: গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঈদের ছুটি বৃদ্ধি, বেতন ও বোনাসের দাবিতে রবিবার সকাল থেকে জুতা তৈরির একটি কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করেছে।

এসব ঘটনায় ওই মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকেরা।

এলাকাবাসী, পুলিশ ও কারখানার শ্রমিক ও মালিক সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লিবিদ্যুৎ হরিণহাটি এলাকার এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড নামে জুতা তৈরির কারখানার শ্রমিকেরা প্রতিদিনের মতো রবিবার সকাল থেকে কাজে যোগদান করে। পরে তারা জানতে পারে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে তাদের চার দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সকল শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা উত্তেজিত হয়ে উঠে।

তারা ১০ দিন ছুটি, চলতি মাসের বেতন, গত রমজান ঈদের বকেয়া অর্ধেক বোনাসের টাকা, বকেয়া ওভারটাইমের টাকার দাবিতে তারা কাজ ফেলে কারখানার সামনে জড়ো হন।

খবর পেয়ে থানা-পুলিশ, শিল্পপুলিশ সকাল ৯ টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।  একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকেরা কারখানায় ভাঙচুর চালায়। পরে তারা পাশের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ করে।

এ সময় তারা মহাসড়কে থাকা ট্রাকসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে। শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৭ ঘণ্টা যানজটে আটকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রী, গরু ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের।

তবে মালিকপক্ষ আলোচনা করে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া মেনে নিলে শ্রমিকেরা বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে অবরোধ তুলে নিলে ওই মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, ছুটি বৃদ্ধি, চলতি মাসের বেতন, গত রমজান ঈদের বকেয়া অর্ধেক বোনাসের টাকা, বকেয়া ওভারটাইমের টাকা দিতে হবে। এ ছাড়া পুলিশের খারাপ আচরণের কারণে সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। তবে দাবি মেনে না নিলে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ওই কারখানার জিএম (অ্যাডমিন) হারুন অর-রশিদ জানান, কারখানার শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে বসেই চার দিনের ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি প্রণোদনাসহ চলতি মাসের বেতন আগামী মাসের ৭ তারিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। হঠাৎ করেই শ্রমিকদের মধ্যে একটি গ্রুপ বিরোধিতা করে এবং আন্দোলন শুরু করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। শ্রমিকদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হবে এবং তাদের দাবি-দাওয়া পূরণের চেষ্টা করা হবে।

গাজীপুর শিল্পপুলিশ-২ এর ওসি রেজাউল করিম জানান, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে তারা আন্দোলন করে এবং মহাসড়ক অবরোধ রেখে যানবাহন ভাঙচুর করে। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার জানান, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া মেনে নিলে শ্রমিকেরা শান্ত হয়ে যার যার বাড়ি চলে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network