বুধবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, সকাল ১০:০৬

রাষ্ট্রদূত হলেন মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও সহিদুল ইসলাম

গণবার্তা রিপোর্ট: সাবেক সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া ও বিমসটেক মহাসচিব মো. সহিদুল ইসলামকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

২২ জুলাই এ দুই কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী দুই বছর মেয়াদে রাষ্ট্রদূত পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদানপূর্বক তার চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। আর বিমসটেকের মহাসচিব পদে চুক্তিতে নিয়োজিত পররাষ্ট্র ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদুলের অভোগকৃত অবসর-উত্তর ছুটি ও তৎসংশ্লিষ্ট সুবিধা স্থগিতের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছরের জন্য রাষ্ট্রদূত হিসেবে চু্ক্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন।

এ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের শর্তাবলি অনুমোদিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন তাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পদায়ন করবে।

সর্বশেষ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালীন অবসরে যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। ২০১০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সেতু বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব পদে নিয়োগ পান তিনি। একই বছরের ২৯ জুলাই পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন মোশাররফ।

এ দায়িত্ব পালনকালে পদ্মাসেতুর পরামর্শকের কাজ পাইয়ে দিতে কানাডীয় প্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনকে ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর বনানী থানায় মোশাররফ হোসেনসহ সাত জনকে আসামি করে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার পর মোশাররফ হোসেনকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ওই বছরের ২৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট থেকে বের হওয়ার পর গণপূর্ত ভবনের সামনে থেকে মোশাররফকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে কয়েক দফায় রিমান্ড মঞ্জুর করে পরে কারাগারে পাঠানো হয়। ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জামিন পান মোশাররফ।

তদন্তের পর দুদক জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুদক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর ২০১৪ সালের অক্টোবরে পদ্মাসেতু দুর্নীতি মামলার অবসান ঘটে। সচিব মোশাররফ হোসেনসহ সাত আসামির সবাইকে অব্যাহতি দেন আদালত। পরবর্তীতে কানাডার আদালতে দায়ের করা মামলাতেও খালাস পান আসামিরা।

এরপর ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর শিল্প সচিব পদে নিয়োগ পেয়ে মোশাররফ ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল সিনিয়র সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান।

ওই বছরের ৩০ জুন অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল মোশাররফের। তবে একদিন আগে ২৯ জুন পিআরএল বাতিল করে তাকে এক বছরের চুক্তিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব পদে রেখে দেয় সরকার।

২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক আদেশে দুই বছরের চুক্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে তাকে নিয়োগ দেয় হয়।

পদ্মাসেতু প্রকল্পে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে জেলখাটা মোশাররফ হোসেনকে আবারও এ নিয়োগের মাধ্যমে পুরস্কৃত করা হলো। চাকরিতে ফেরত আসার পর মোশাররফ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর নরসিংদীর সন্তান মোশাররফ ১৯৮১ সালের বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network