বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, বিকাল ৪:১৮

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কীভাবে এলো জানি না : সাহাবউদ্দিন পরিচালক

গণবার্তা রিপোর্ট: রোববারের (১৯ জুলাই) অভিযানে রাজধানী গুলশানের সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার থেকে ২০০৯ সালসহ বিভিন্ন সময়ে মেয়াদোত্তীর্ণ পাঁচটি সার্জিক্যাল সামগ্রী (এনডোট্রাসিয়াল টিউব) উদ্ধার করে র‍্যাব। হাসপাতালটির ফার্মেসি থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ। তবে হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ সামগ্রী থাকার কথা অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক (কলেজের অধ্যক্ষ) অধ্যাপক ডা. মো. জাফর উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকার প্রশ্নই উঠে না। আমরা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে রোগীদের জন্য ওষুধ ব্যবহার করি।’

সোমবার (২০ জুলাই) হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে রোববার দুপুরে করোনার চিকিৎসায় ডেডিকেটেড হাসপাতালটিতে অভিযান শুরু করে র‌্যাবের একটি দল। অভিযানে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ সার্জিক্যাল সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পরে এসব সার্জিক্যাল সামগ্রী যাচাই করে দেখা যায়, এগুলোর কোনোটির মেয়াদ ২০০৯ সালে আবার কোনোটির মেয়াদ ২০১১ সালে শেষ হয়েছিল। হাসপাতালটির বাকি চারটি ওপারেশন থিয়েটারে ছিল তালা মারা। এসব সার্জিক্যাল সামগ্রী অপারেশন করার সময় রোগীর গলার ভেতর ঢোকানো হয়। তবে এই সামগ্রীগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ‘রোগীর মৃত্যুঝুঁকি’ রয়েছে।

অভিযানে অসহযোগিতা করায় সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবুল হাসনাত ও ইনভেন্টরি অফিসার শাহজির কবির সাদিকে হেফাজতে নেয় র‌্যাব।

এসব বিষয়ে পরিচালক বলেন, ‘হাসপাতালের ফার্মেসির বিষয়ে একটি ত্রুটি ছিল। ফার্মেসির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। রিনিউ (নবায়ন) করা হয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়টি আমার নলেজেই নেই, ধারণায় নেই। এটা কীভাবে আসল আমরা জানি না। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ থাকার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে রোগীদের জন্য ওষুধ ব্যবহার করি।’

অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালের ল্যাব থেকে ভুয়া রিপোর্ট ইস্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে আমি নিশ্চিত। আমাদের প্রতিটি রিপোর্টে ল্যাব নম্বর দেয়া থাকে। যেসব রিপোর্ট নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলোতে কোনো ল্যাব নম্বর ছিল না। আমাদের ল্যাব থেকে পরীক্ষা করা হলে ল্যাব নম্বর থাকত। এর মানে আমরা রিপোর্ট দেইনি। যদি কেউ গণস্বাস্থ্যের কিট দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে টেস্ট করে রিপোর্ট দিয়ে থাকে তাহলে সে দায় তার।’

আপনি বলছেন প্রায় সব ঠিক আছে, তাহলে কি এই অভিযান ষড়যন্ত্র? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সাহাবউদ্দিনের পরিচালক বলেন, ‘ষড়যন্ত্র বলব না, মিস-ইনফোরমেশনের (ভুল তথ্য) কারণে এমন হতে পারে।’

এর আগে এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘করোনা টেস্ট (RT-PCR) করার জন্য আমরা প্রাভা হেলথ কেয়ার বাংলাদেশ ও ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সঙ্গে চুক্তি করে সেখান থেকে পরীক্ষা করে এনেছি। এছাড়াও হাসপাতালের লাইসেন্সের মেয়াদ গত ৩০ জুন ২০১৯ তারিখে অতিক্রান্ত হলেও তা নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফি জমাসহ সকল দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতরে। নবায়নের বিষয়টি চলমান আছে।’

একই হ্যান্ড গ্লাভস বারবার ব্যবহারের বিষয়ে এ পরিচালক বলেন, ‘সুস্পষ্টভাবে আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই, আমাদের হাসপাতালে কখনওই সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা হয় না। অপারেশন থিয়েটারে পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু সংখ্যক সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস পাউডার মিশ্রিত করে রাখা হয়, যাতে যেকোনো অপারেশনেই দ্রুত ব্যবহার করা যায়।’

তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর ও চিকিৎসক বিশেষজ্ঞসহ সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সুবিবেচনার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’

তিনি আরও জানান, এছাড়াও এই হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান এখানে অনলাইনে ও অন্যান্য উপায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে, কিছুদিন পরেই ছাত্র-ছাত্রীদের পরিমুভা কার্যক্রম শুরু হবে। এই হাসপাতালে দেশি-বিদেশি শিক্ষানবিশ ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ যথারীতি চালু আছে। এমতাবস্থায় এই প্রতিষ্ঠান নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালু না থাকলে শতশত মেডিকেল শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও রোগীদের চিকিৎসা এবং কর্মচারীদের জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network