মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮, সকাল ১১:৫৯
শিরোনাম :
বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিলো বলেই আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি – ড. হারুন অর রশিদ বিশ্বাস মুলাদীতে শারদীয় দুর্গোৎসবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের মতবিনিময় খুলনায় স্বদেশ ইসলামী লাইফের বিশেষ উন্নয়ন সভা ঢাকা এঞ্জেল লায়ন্স ক্লাবের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন, খাদ্য ও মাস্ক বিতরন ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেবে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স টাঙ্গাইল জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এর রাজশাহী বিভাগের উন্নয়ন সভা এনআরবি ইসলামিক লাইফের ব্যবসা উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত মুজিববর্ষ বধির দাবা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এনআরবি গ্লোবাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সার্বিক লকডাউনে যেতে নারাজ রাজ্য

কন্টেইনমেন্ট জোন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে স্থানীয় প্রশাসন

করোনা সংক্রমণ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শনিবার কার্যত এই ভাষাতেই রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা। কন্টেইনমেন্ট জোনে কঠোর লকডাউনের আজ, রবিবারই শেষ দিন। ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের জেরে বিধি-নিষেধের সেই কড়াকড়ির লাগাম আরও শক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রাজ্যজুড়ে ফের সার্বিক লকডাউন জারির গুজব ছড়াচ্ছে লোকমুখে। তবে সেই জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছেন মুখ্যসচিব। স্পষ্ট জানিয়েছেন, এখনই গোটা রাজ্যে সম্পূর্ণ লকডাউন কার্যকরের কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের। প্রয়োজনে কোনও পুর এলাকা, কোনও পাড়া বা রাস্তায় কঠোর লকডাউন হবে। তবে তা শুধু কন্টেইনমেন্ট জোনেই। অর্থাৎ এখন যেমন রয়েছে। আর সেই সিদ্ধান্ত নেবে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিন পর্যন্ত রাজ্যে মোট কন্টেইনমেন্ট জোনের সংখ্যা ৭২৪। গত ৯ জুলাই বিকেল পাঁচটায় যখন নতুন করে বিধি-নিষেধের কড়াকড়ি শুরু হয়, তখন সংখ্যাটা ছিল ৪৩৪। ফলে এই সব কন্টেইনমেন্ট এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত লকডাউন একইরকমভাবে চলার ইঙ্গিতও দিয়েছেন মুখ্যসচিব। তিনি জানিয়েছেন, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এই পাঁচটি জেলাকে একটি ক্লাস্টার হিসেবে চিহ্নিত করে করোনা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, গত কয়েকদিন ধরে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমানসে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সেই উদ্বেগ প্রশমনে এদিন যুক্তিও দিয়েছেন রাজীব সিনহা। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার নমুনা পরীক্ষা বাড়িয়েছে। তার ফলেই সংক্রমণের তালিকা দীর্ঘতর হচ্ছে। সবরকম স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি রয়েছে। করোনা সংক্রমণের থেকে ‘সরকারের গতি বেশি’ বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যসচিব।

রীতিমতো তথ্য দিয়ে তা জলের মতো পরিষ্কারও করে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৪ হাজার ৭০৯ জন সক্রিয় আক্রান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৬৬০ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক। মাঝারি মাত্রার উপসর্গ রয়েছে, এমন রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৫০। অর্থাৎ মাত্র ১ হাজার ৯০০ জনকে হাসপাতালে রাখা প্রযোজন। ২ হাজার ২০০ রোগীর স্বল্প উপসর্গ রয়েছে। বাকি ১০ হাজার ৫০০ জন বা ৭২ শতাংশ আক্রান্তই উপসর্গহীন। তাঁরা বাড়িতে থেকে চিকিৎসা করাতে পারেন বা সেফ হোমে থাকতে পারেন।’

রাজ্য সরকার কতটা প্রস্তুত তার খতিয়ানও দিয়েছেন মুখ্যসচিব। জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রতিটি সেফ হোমে অক্সিজেন এবং একটি করে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। প্রতিটি হোমকে একটি করে কোভিড হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই মুহূর্তে রাজ্যে মোট ১৫ হাজার বেড রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই আরও ৫ হাজার শয্যা বাড়ানো হবে।

বেডের অভাব এখনও শুরু হয়নি। মৃত্যুহার কমার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন মুখ্যসচিব। একসময় রাজ্যের মৃত্যু হার জাতীয় গড়ের থেকে অনেকটাই বেশি ছিল। এখন সারা দেশে এই হার ২.৫৩ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে তা ২.৭৬ শতাংশ।

চিকিৎসার মান উন্নত করার উপরই জোর দিয়েছে সরকার। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, বিভিন্ন ল্যাবরেটরিতে ফলস পজিটিভ রিপোর্ট আসছে। কয়েকটি ল্যাবরেটরির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলস পজিটিভ রিপোর্ট আটকাতে রবিবার থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আইসিএমআর থেকে নতুন যে কিট এসেছে, তার প্রশিক্ষণও শুরু হচ্ছে।

করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য এদিন শীর্ষ আইএএস অফিসারদের নেতৃত্বে কয়েকটি কমিটিও তৈরি করেছেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন...

Developed by: Engineer BD Network