

শাহ পরান হাওলাদার : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত অনলাইন অ্যাকাউন্টকে কেন্দ্র করে বাড়ছে সাইবার অপরাধীদের তৎপরতা। বিভিন্ন কৌশলে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর ছবি-ভিডিও চুরি এবং সেগুলো অপব্যবহারের চেষ্টা করছে অপরাধীরা। এ ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
সাইবার অপরাধীরা অনেক সময় ভুয়া লিংক, প্রতারণামূলক বার্তা, নকল লগইন পেজ কিংবা পরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর পাসওয়ার্ড ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পর ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও চুরি করে সেগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া, ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় অথবা অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টা করা হতে পারে।
কীভাবে নিরাপদ থাকবেন : সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও তথ্য সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রতিটি অ্যাকাউন্টে শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং সম্ভব হলে নিয়মিত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত। পাশাপাশি সব গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টে ঞড়ি-ঋধপঃড়ৎ অঁঃযবহঃরপধঃরড়হ (২ঋঅ) চালু রাখলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
অপরিচিত ব্যক্তি বা সন্দেহজনক উৎস থেকে আসা কোনো লিংকে ক্লিক করা কিংবা অজানা ফাইল ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কেউ জরুরি বা ভয় দেখিয়ে পাসওয়ার্ড, ঙঞচ, ভেরিফিকেশন কোড কিংবা ব্যক্তিগত ছবি চাইলে কোনো অবস্থাতেই তা দেওয়া উচিত নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রাইভেসি সেটিংস পর্যালোচনা করে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও তথ্য কারা দেখতে পারবে, সেটিও সীমিত রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি-ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ বা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে কী করবেন : কোনো অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লগইন বা অননুমোদিত কার্যক্রম দেখা গেলে দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে হবে এবং অন্য ডিভাইসগুলো থেকে অ্যাকাউন্ট লগআউট করতে হবে। ২ঋঅ চালু না থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে চালু করা উচিত। ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও নিয়ে কেউ হুমকি দিলে কিংবা অর্থ দাবি করলে আতঙ্কিত হয়ে টাকা পাঠানো বা অপরাধীর সঙ্গে দর-কষাকষি না করে প্রমাণ হিসেবে মেসেজ, স্ক্রিনশট ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিপোর্ট করার পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তা নেওয়া উচিত। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা, শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সন্দেহজনক কোনো কর্মকাণ্ডে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো। ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ও তথ্যকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব যেমন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর, তেমনি ব্যবহারকারীদেরও নিজেদের ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সতর্ক থাকুন, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখুন—সাইবার অপরাধের শিকার হওয়ার আগেই প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।