

বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবান জেলার লামা পৌর এলাকায় এডিবি’র (অউই) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন স্যানিটারি ল্যাট্রিন বরাদ্দ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের জনসাধারণকে বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে তালিকা প্রণয়ন এবং নামের তালিকা সংযোজন-বিয়োজনের অভিযোগ এনে প্রকল্পের সকল কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
আজ ১০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে লামা পৌরসভার প্রশাসক’র নিকট এলাকার সাধারণ মানুষের পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু: লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লামা পৌরসভার ১নং থেকে ৯নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা মাঠ পর্যায়ে প্রাথমিক জরিপ চালিয়ে এবং ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ করে নিশ্চিত হয়েছেন, স্যানিটারি ল্যাট্রিন বিতরণ প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়ম করা হয়েছে।
অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে যা বলা হয়েছে: প্রকৃত হতদরিদ্রদের বঞ্চিত করা: পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রকৃত হতদরিদ্র ও প্রান্তিক লোকজন ল্যাট্রিন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
অর্থের বিনিময়ে তালিকা প্রণয়ন: অভিযোগ রয়েছে যে, টেবিলের নিচে আর্থিক লেনদেন বা ঘুষের বিনিময়ে সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তালিকায় নাম সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে।
ভিডিও প্রমাণ সংগ্রহ: স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে মাঠপর্যায়ে জরিপ করে এই দুর্নীতির ভিডিও প্রমাণও সংগ্রহ করেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি: দুর্নীতির মাধ্যমে তালিকা তৈরি ও বরাদ্দের এই অনিয়ম সামনে আসায় পৌর এলাকার ক্ষুব্ধ জনসাধারণ চলমান “স্যানিটারি ল্যাট্রিন প্রকল্প”-এর সকল কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, প্রকৃত দুস্থ ও গরিব উপকারভোগী নির্বাচনের লক্ষে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা এবং পুনরায় যাচাই-বাছাই করে নতুন করে তালিকা তৈরির জন্য পৌর প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে স্বাক্ষরকারী সাধারণ জনগণের পক্ষে- নূরুল আলম, আদহাম বিন ইব্রাহীম, , মো. ইব্রাহীম, জাফর মিয়া, মো. আব্দুল করিমসহ ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন। এই ঘটনায় পুরো পৌর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, যাদের মাধ্যমে এই অনিয়ম হয়েছে শীঘ্রই ঐ দূর্নীতিবাজদের নামের তালিকা সহ প্রকাশ করা হবে এবং অভিযোগ আকারে মন্ত্রণালয়ের প্রতিটি দপ্তরে প্রেরণ করা হবে।