

মহিবুল ইসলাম সৌরভ : বরিশালের বাকেরগঞ্জে দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। ৮ আগস্ট ২০২৬ রোজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের ০২ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষ্ণকাঠী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন—কৃষ্ণকাঠী গ্রামের মো. কবির হোসেন আকন (৪৮), তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমা (৩৫), মেয়ে সামিয়া আক্তার (২০) ও ছেলে জাবেদুল ইসলাম আলিফ (১২)। আহত পরিবারের অভিযোগ, বড় কৃষ্ণকাঠী মৌজার এসএ খতিয়ান নম্বর ২৯৩-এর হাল দাগ ৫৮৩৮ এবং এসএ খতিয়ান নম্বর ৬৩৭-এর হাল দাগ ৫৮৩৮-এর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলে আসছে। সংশ্লিষ্ট দুই খতিয়ানের মোট ২০ শতাংশ জমির মধ্যে ১১ শতাংশ জমি কবির হোসেন আকনের দখলে রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
অবশিষ্ট ৯ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরিবারটির দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্বে কবির হোসেনের চাচাদের কাছ থেকে ওই জমির অংশবিশেষ ক্রয় করেছিলেন।
তবে জমির পূর্ববর্তী লেনদেন ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ক্রয় করা জমির পুরো অংশ বুঝে পাননি তারা। এরপর থেকে কবির হোসেনের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারের। জমি নিয়ে বিরোধ নিরসনে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে স্থানীয় থানা প্রশাসন, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলেও দাবি করেছে কবির হোসেনের পরিবার। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা এবং সরকারি আমিনের মাধ্যমে জমি পরিমাপের পর কবির হোসেনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে প্রতিপক্ষ ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরই মধ্যে গত ৪ জুলাই বিরোধপূর্ণ জমিতে বহিরাগত লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক চাষাবাদ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে কবির হোসেন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বলে তার পরিবার জানিয়েছে।
পরিবারটির অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কবির হোসেনের বাড়িসংলগ্ন জমিতে আসেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে কবির হোসেন, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলে আহত হন। আহতদের স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে। আহত ফাতেমা আক্তার সুমা জানান, সংঘর্ষে তার পরিবারের চার সদস্যই আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় কবির হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে জাকির হাওলাদার (৫৫), তার ছেলে কামরুল হাওলাদার (৩০), সাইদুল হাওলাদার (৩২), জহিরুল হাওলাদার (২৭) এবং আল আমিন হাওলাদার (৩৩)-এর বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি হয়নি বলে জানা গেছে। এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। জমির মালিকানা, দখল এবং সংঘর্ষের ঘটনায় কারা দায়ী—তা আইনগত প্রক্রিয়া ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আদিল হোসেন বলেন অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।