

জে.এ তারেক : “জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন, শেরপুরের উদ্যোগে এক গাম্ভীর্যপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বীর শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি শহিদ পরিবারবর্গ ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মান্যবর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জনাব মোঃ শাকিল আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শেরপুরের শহিদ মাহবুব আলম, শহিদ সবুজ মিয়া, শহিদ শারদুল আশীষ সৌরভ-সহ অন্যান্য বীর শহিদদের পরিবারবর্গ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সহযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তঝরা দিনগুলোর কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অসামান্য আত্মত্যাগ আমাদের নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথ দেখিয়েছে। এই চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন এবং উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের পুলিশ সুপার জনাব এ কে এম জহিরুল হক, জেলা পরিষদ প্রশাসক জনাব এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ, সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব দীপংকর রায়, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) মিজ্ আরিফা সিদ্দিকা এবং শেরপুর সদরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ আসমা বিনতে রফিক।
এছাড়াও নাগরিক সমাজ ও রাজনীতিকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে অংশ নেন শেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম সিরাজুল ইসলাম, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জনাব আব্দুল বাতেন, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি জনাব কাকন রেজা, এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া এবং বিজ্ঞ জিপি খন্দকার মুহাম্মদ রকীব। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সুধীজনের উপস্থিতিতে সভাটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল শহিদ পরিবার ও সংবর্ধিত জুলাই যোদ্ধাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়ার সময়টি। বীর শহিদদের ত্যাগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থে কাজ করার দৃপ্ত শপথ গ্রহণ করেন।
দিবসটি উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশু-কিশোরদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘটে। আগামী প্রজন্মের মাঝে জুলাইয়ের চেতনা ও দেশপ্রেম ছড়িয়ে দেওয়ার দৃঢ় বার্তা নিয়ে শেষ হয় এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান।