

স্টাফ রিপোর্টার: বিশ্বজুড়ে শেলের সমন্বিত গ্যাস বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয় বিশাল এলএনজি বাণিজ্য। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এ বিভাগ প্রায় ২৭০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি- মার্চ) তুলনায় এ সময়ে গ্যাস উত্তোলন ৩১ শতাংশ কমেছে। তবে বিভাগের মুনাফা বেড়েছে আগের বছরের চেয়ে ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে রাসায়নিক ও তেলজাত পণ্য বিভাগ থেকে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০ কোটি ডলারে। আগের বছর একই সময়ে এ আয় ছিল মাত্র ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাবে বিপুল মুনাফা করেছে এ খাতের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান শেল। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) যুক্তরাজ্যের কোম্পানিটির নিট মুনাফা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮৪ কোটি ডলারে, যা বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক বেশি। খবর রয়টার্স।বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে শেলের মুনাফা হতে পারে ৮৯২ কোটি ডলার। কিন্তু বাস্তবে সেই হিসাব ছাপিয়ে গেছে। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ৪২৬ কোটি ডলার। শেলের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রান্তিক মুনাফার রেকর্ড। এর আগে ২০২২ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি সর্বোচ্চ মুনাফা করেছিল। তখন ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় সংকট তৈরি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের আকাশচুম্বী দামের কারণে শেলের এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), জ্বালানি তেল বাণিজ্য ও রাসায়নিক পণ্যের বাড়তি বিক্রির সুযোগ কাজে লাগিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি শেল, বিপি ও টোটালএনার্জিসের মতো বড় কোম্পানিগুলোর জন্য আয়ের বড় সুযোগ তৈরি করে দেয়। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বাড়তি চাহিদা ও দামের সুযোগ নিতে শেলের শোধনাগারগুলো সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিচালনা করা হয়। কোম্পানিটির হিসাব অনুযায়ী, এ সময় সংস্থাটির শোধনাগারের মোট সক্ষমতার ১০২ শতাংশ ব্যবহার করেছে। এর ফলে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েল উৎপাদন ২০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ খবর প্রকাশের পর শেয়ারবাজারে শেলের শেয়ারের দাম দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে যায়, যা ইউরোপের সার্বিক জ্বালানি খাতের গড় সূচকের তুলনায় বেশি। অবশ্য ভালো মুনাফা করলেও শেয়ারবাজারে ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বী এনি ও টোটালএনার্জিসের তুলনায় শেলের অবস্থান কিছুটা পিছিয়ে আছে। জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলনে শেলের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মনে কিছু সংশয় রয়েছে। তবে অন্য প্রতিযোগীদের তুলনায় শেলের দায় বা ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে কম। বিশ্বজুড়ে শেলের সমন্বিত গ্যাস বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয় বিশাল এলএনজি বাণিজ্য। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে এ বিভাগ প্রায় ২৭০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে। প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি- মার্চ) তুলনায় এ সময়ে গ্যাস উত্তোলন ৩১ শতাংশ কমেছে। তবে বিভাগের মুনাফা বেড়েছে আগের বছরের চেয়ে ৫৫ শতাংশ। অন্যদিকে রাসায়নিক ও তেলজাত পণ্য বিভাগ থেকে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯০ কোটি ডলারে। আগের বছর একই সময়ে এ আয় ছিল মাত্র ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে ২০২২ সালের পর এবারই সর্বোচ্চ পরিচালন নগদ প্রবাহ বা অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো পেয়েছে কোম্পানিটি। এ সময় তারা নিট ঋণ কমিয়ে ৪ হাজার ১৮০ কোটি ডলারে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিক শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ২৬০ কোটি ডলার। শেল জানিয়েছে, কোম্পানিটি আগামী তিন মাসে শেয়ার পুনর্বিক্রয় বা শেয়ার বাইব্যাক কার্যক্রম পূর্ব নির্ধারিত ৩০০ কোটি ডলারেই বহাল রাখবে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পূর্বাভাসে শেল জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির দৈনিক গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ হতে পারে ৫ লাখ ৭০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সমতুল্য। মূল খাতে দৈনিক গ্যাস উত্তোলন হতে পারে ১৬ লাখ ৮০ হাজার থেকে ১৮ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল। তবে আগামী মাসগুলোয় কারখানা সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য উত্তোলনের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে।বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে শেলের উৎপাদনে কিছু প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে মার্চে কাতারে অবস্থিত শেলের পার্ল গ্যাস টু লিকুইড প্লান্টে হামলার পর সেটি বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্লান্টটি মেরামত করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে কাতারকেন্দ্রিক এ ঘাটতি মেটাতে কানাডা, নাইজেরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় উত্তোলন বাড়ানোর চেষ্টা করছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে শেলের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলনের প্রায় ২০ শতাংশ বা দৈনিক ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশই সরবরাহ করে কাতার। দ্বিতীয় প্রান্তিকজুড়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৭ ডলার। ইউরোপীয় বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের গড় দাম ছিল প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় ৪৬ ইউরো। এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।