

মহসিন হোসেন জয় : পটুয়াখালীর গলাচিপায় ফ্যামিলি শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের প্রাক-বাছাই পরীক্ষা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকালে গলাচিপা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
প্রতিবেদকের একাধিক পরীক্ষার্থীদের সাথে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি শুমারীতে অংশগ্রহণ করতে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত শেষ সময় ছিল ২৮ জুলাই দুপুর ১২টা পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রমের পরও সমাজসেবা অফিসে আবেদনপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। যার একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের যথাযথ পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি ছাড়াই পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে প্রকৃত আবেদনকারীই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ ছিল না বলে দাবি করেন পরীক্ষার্থীরা।
একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, কেন্দ্রে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ছিল। পরীক্ষার্থীরা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়েই পরীক্ষায় অংশ নেন। অনেককে পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ব্যবহার করে ইন্টারনেট থেকে উত্তর খুঁজতে দেখা গেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরীক্ষা বিকেল ৪টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ কক্ষে পরীক্ষা শুরু হয় প্রায় সাড়ে ৪টায়। তবে এর আগেই একটি কক্ষে ৪ টা ১০ মিনিটে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই কক্ষের দায়িত্বে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মু. অলিউল ইসলাম ছিলেন বলে জানান পরীক্ষার্থীরা।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত আসন বিন্যাস না থাকায় একটি বেঞ্চে চার থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। আসন বিন্যাস না থাকায় অনেকেই রোল নম্বর ও নির্ধারিত কক্ষ খুঁজে না পেয়ে দীর্ঘ সময় এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে ঘুরেছেন। একজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, প্রশ্নপত্র না পাওয়ায় তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি এবং কেন্দ্র ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
অন্যদিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লিখিত বা প্রিলিমিনারি পরীক্ষার কোনো উল্লেখ না থাকলেও প্রিলি প্রাক-বাছাই পরীক্ষা নেওয়ায় হয়। এসময় কেন্দ্র নানান অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণ ও লাইভ সম্প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এতে উপস্থিত সাংবাদিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরীক্ষার্থীরা এসব ঘটনায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পরীক্ষা শেষে রাত প্রায় আড়াইটার দিকে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সুপারিশের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচনের অভিযোগ তুলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেকে।
অভিযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মু. অলিউল ইসলাম বলেন, নিয়োগ নির্দেশনায় পরীক্ষার কথা উল্লেখ না থাকলেও অধিকসংখ্যক আবেদনকারীর মধ্য থেকে প্রার্থী বাছাইয়ের সুবিধার্থে প্রাক-বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তিনি সময় স্বল্পতার কারণে ব্যবস্থাপনায় কিছু ঘাটতি ছিল বলে স্বীকার করেন এবং পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও তিনি দাবি করেন, সার্বিকভাবে পরীক্ষা স্বচ্ছভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা ফ্যামিলি শুমারি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই ফ্যামিলি শুমারি ২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গলাচিপা উপজেলার সমাজসেবা কার্যালয় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে ১৩০ জন তথ্য সংগ্রহকারী, ১৪ জন সুপারভাইজার এবং ২ জন আইসিটি সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। এ অস্থায়ী নিয়োগে প্রায় ১ হাজার ৫৭৪ জন আবেদনকারী আবেদন করেন। যার মধ্যে ১২ টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার জন্য মোট ৪০৫ উত্তীর্ণ করা হয়েছে।