

মহিবুল ইসলাম সৌরভ : বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্বকে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে “বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ে করণীয়” শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৭ জুলাই রোজ সোমবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ইমাম, কাজী, পুরোহিত ও পাদ্রী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহের সামাজিক, আইনগত ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হয় এবং প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিলটন চন্দ্র পাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার আমিনুল ইসলাম, বাকেরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক মহিবুল ইসলাম সৌরভ এবং বায়েজিদ বাপ্পি।
সেইন্ট বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিশুদের জন্য প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী দেওয়ান ইসতে আখ উল আলম, প্রকল্প কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ এবং ইউনিয়ন ফ্যাসিলিটেটর অমল দাস। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন আবু মুসা মো. মোনায়েম। পরে গীতা পাঠ করেন অশোক কুমার চ্যাটার্জী এবং বাইবেল থেকে পাঠ করেন মাথিয়াচ গোমেজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, “বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই আইন লঙ্ঘন করে বাল্যবিবাহ সংঘটিত হতে দেওয়া যাবে না। সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধই এ সমস্যা মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।” বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ধর্মীয় নেতাদের ইতিবাচক ভূমিকা সমাজে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। খুতবা, ধর্মীয় উপদেশ এবং সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করলে বাল্যবিবাহের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।